সিজিটিএন পোল: চীনের ‘দুই অধিবেশন’ শুরু, এই ‘এজেন্ডা উইন্ডোজ’ মনোযোগের দাবি রাখে

সিজিটিএন পোল: চীনের ‘দুই অধিবেশন’ শুরু, এই ‘এজেন্ডা উইন্ডোজ’ মনোযোগের দাবি রাখে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সবচেয়ে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাসীর কাছে চীনকে পর্যবেক্ষণ ও বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে, চীনের এই বছরের 'দুই অধিবেশন' আন্তর্জাতিক সমাজের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দুই অধিবেশনের প্রাক্কালে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিজিটিএন এবং ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনহুয়া ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন যৌথভাবে "২০২৬ হট টপিকস আউটলুক রিপোর্ট" প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা একটি "ত্বরিত অথচ ধীর গতির পরিবর্তনশীল" অবস্থার মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছে। এ ছাড়া, দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট রীতিনীতি ও শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত মতবিরোধ এবং প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। চীন-সম্পর্কিত আলোচিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক জনমত মূলত চীনের ওপরই দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। বিশেষ করে, উচ্চমানের উন্নয়নের মূলনীতির অধীনে প্রত্যাশা স্থিতিশীল করা এবং প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে সংস্কার ব্যবস্থার একটি নতুন পর্যায় এবং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি শাসনের মতো একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে দশটি আন্তর্জাতিক বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—আঞ্চলিক সংঘাত ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিয়ন্ত্রক দৌড় বা প্রতিযোগিতা, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসন সংকটের বৃদ্ধি এবং গ্লোবাল সাউথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থার উত্থান ইত্যাদি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে থাকবে।

দুর্বল শাসন ক্ষমতাসম্পন্ন অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা শূন্যতা আরও বাড়তে পারে, বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতা আরও গভীর স্তরে পৌঁছাবে এবং গ্লোবাল সাউথ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি পুনর্গঠনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। পশ্চিমা জনপ্রিয়তাবাদ আরও বাড়তে পারে এবং উৎপাদনশীল (জেনারেটিভ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক লড়াই আরও তীব্র হতে থাকবে। চীনের শাসন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠবে; যা বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার খণ্ডিতকরণকে জোরদার করতে পারে এবং "ডিকাপলিং" (বিচ্ছিন্নকরণ) ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন "জরুরি প্রতিক্রিয়া" পদ্ধতি থেকে "সিস্টেম স্থিতিস্থাপকতা" বা টেকসই ব্যবস্থার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথে স্থানান্তরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, জলবায়ু ঝুঁকিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে দেখা হবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এছাড়াও, প্রতিবেদনে চীন সম্পর্কিত দশটি আলোচিত বিষয়েরও রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে যে, ২০২৬ সাল হলো চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনা এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী। একদিকে, উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়ন কৌশল সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে, অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্থ উন্নয়নে আরও টেকসই নতুন গতি সঞ্চারিত হবে; অন্যদিকে, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে আরও গভীর করার মাধ্যমে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া, "অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এবং দ্বৈত সঞ্চালন উন্নয়ন মডেল" সম্পর্কিত বিষয়গুলো জনসাধারণের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা

Rate This Article

How would you rate this article?

এম রহমান

এম রহমান

More than 3 years experience on reporting in various fields.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.