সংবাদ পর্যালোচনা
সেবা খাতের সক্ষমতা ও মানোন্নয়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি
এপ্রিল ১৪: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন, চাহিদাভিত্তিক চালিকাশক্তি, সংস্কারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রযুক্তির ক্ষমতায়ন এবং উন্মুক্ত সহযোগিতার মাধ্যমে সেবা খাতের উচ্চমানসম্পন্ন উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে, সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি, সেবা খাতের উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে এবং ধারাবাহিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে এই খাতের পরিধি ও মান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে চীনের সেবা খাত শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে চলেছে। জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তম শিল্প হিসেবে, এটি উচ্চমানসম্পন্ন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এক দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করছে।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি)-তে সেবা খাতের অবদান ৫০% ছাড়িয়ে যায়। এরপর টানা ১১ বছর ধরে এটি জাতীয় অর্থনীতির অর্ধেকেরও বেশি অংশ দখল করে আছে। ২০২৫ সালে সেবা খাতের আকার প্রথমবারের মতো ৮০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করে। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান এখন ৬১.৪%, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের 'প্রধান চালিকাশক্তি' হিসেবে এর অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-কমার্সের মতো আধুনিক সেবা খাত আজ মানুষের জীবনযাত্রা ও উত্পাদন-ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনছে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং "পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা" বাস্তবায়নকালে সেবা খাতের উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন উন্নয়নের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উত্পাদনমুখী সেবা খাতকে পেশাদারিত্বের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকারী সেবা খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সুবিধাজনক করার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে "চীনের সেবা" ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়।
"পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা"-র রূপরেখায় সেবা খাতের গুণগত মান, দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারগুলো নতুন উত্পাদনশীল শক্তির বিকাশে, সেবা খাতকে কাজে লাগানোর পথ খুঁজছে: কুয়াংতুং প্রদেশ প্রযুক্তি ও অর্থের গভীরতর মেলবন্ধনের মাধ্যমে, প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে; সাংহাই শহর উন্নত উত্পাদন-ব্যবস্থাকে "উত্পাদন+সেবা" এবং "পণ্য+সমাধান" মডেলে রূপান্তরের জন্য তিন বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে; চীনের চিয়াংসু প্রদেশ ডিজিটাল ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, হাই-এন্ড সফটওয়্যার শিল্পের উন্নয়নে গতি বাড়িয়েছে।
উত্পাদনমুখী সেবা খাত এখন শিল্প রূপান্তরের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তির প্রয়োগে, চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট এখন ৪১টি প্রধান শিল্প বিভাগকে কভার করছে। বর্তমানে চীনের বড় আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ৮৯.৬% ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় এসেছে এবং ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার ৫৭.৭%-এ পৌঁছেছে।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও সেবা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: কমিউনিটি-ভিত্তিক বৃদ্ধাশ্রম এবং সাশ্রয়ী শিশু যত্নকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে; স্মার্ট হাউসকিপিং এবং ইমারসিভ অভিজ্ঞতার মতো নতুন নতুন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে; গ্রামীণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (যেমন 'ভিলেজ সুপার লিগ') পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন জোয়ার এনেছে।
২০২৫ সালে চীনের সেবা খাতের আমদানি-রপ্তানি প্রথমবারের মতো ৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে। সেবা খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের হার ৭০% ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর চীন টেলিকমিউনিকেশন, বায়োটেকনোলজি এবং বিদেশি মালিকানাধীন হাসপাতালের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ আরও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
"পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা" বাস্তবায়নকালে সেবা খাতের উচ্চমানসম্পন্ন উন্নয়নের সম্ভাবনা পুরোপুরি বিকশিত হলে এর আকার ১০০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চীনের অর্থনীতিতে এক অপরাজেয় শক্তির সঞ্চার করবে। (শুয়েই/আলিম/জিনিয়া)