ইউরোপীয় নেতাদের ঘনঘন চীন সফরের কারণ: সিএমজি সম্পাদকীয়

ইউরোপীয় নেতাদের ঘনঘন চীন সফরের কারণ: সিএমজি সম্পাদকীয়

"চীনের সঙ্গে স্থিতিশীল কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা ব্রিটেনের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।" "এবারের সফর ব্রিটেন-চীন সম্পর্কের পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারে।" দীর্ঘ ৮ বছর পর কোনও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ফের চীন সফরের দিকে ব্রিটেনের জনমত গভীর নজর রেখেছে। সিএমজি সম্পাদকীয় এসব মন্তব্য করেছে। সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, গত ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফর করেছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ২৯ জানুয়ারি বেইজিংয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। চীন ও ব্রিটেন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই পক্ষ ধারাবাহিক ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতার জন্য নতুন সূচনার সৃষ্টি করেছে। গত বছরের শেষ দিক থেকে স্পেন, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ব্রিটেনসহ অনেক ইউরোপীয় দেশের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে চীন সফর করেছেন। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

চলতি বছর হলো চীনের ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র সূচনা বছর। উচ্চমানের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং দৃঢ়ভাবে উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ করা—এটাই চীন বিশ্বকে দেওয়া সুস্পষ্ট সংকেত। বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যাপকভাবে উন্নয়নের চালিকাশক্তির অভাবে ভুগছে। তারা চীনের উন্নয়নের ‘দ্রুতগতির ট্রেনে’ উঠতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি সঞ্চার করা যায়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, আজকাল একতরফাবাদ, সংরক্ষণবাদ এবং ক্ষমতার কূটনীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ উপলব্ধি করেছে যে, বড় দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ককে সমন্বয় ও ভারসাম্যপূর্ণ করা উচিত। আরও যৌক্তিক ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা উচিত।

পরিবর্তনশীল ও জটিল বিশ্বে চীন গোটা বিশ্বের জন্য অমূল্য স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি ‘দুষ্প্রাপ্য সম্পদ’। "চীন ও ইউরোপ পরস্পরের অংশীদার, প্রতিপক্ষ নয়। দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি এবং ঐকমত্য মতবিরোধের চেয়ে বেশি।" ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চীন-ইউরোপ সম্পর্ক উন্নয়ন সম্পর্কে এভাবেই মতামত প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে চীন ও ইউরোপের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনা। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপ তার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনছে। চীনে একটি প্রবাদ আছে, "একা ভারি বোঝা তোলা কঠিন, কিন্তু অনেকে মিলে তা সহজেই সরানো যায়।" যুগের উন্নয়নের সঠিক দিকে অবস্থান করা এবং উন্মুক্তকরণ, সংলাপ ও সহযোগিতায় অবিচল থাকাই হলো ইতিহাসের মূল ধারা।

আকাশ/তৌহিদ/ফেইফেই

Rate This Article

How would you rate this article?

ED Desk

ED Desk

Staff Reporter

Experience in write about 5 years.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.