মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) একটি উন্নত মডেল তৈরি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের গভীরতম অঞ্চল পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এ প্রযুক্তি। অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল স্প্যাশিওটেমপোরাল এনহান্সমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর ইমেজ সিনথেসিস বা আসটেরিস নামের মডেলটি তৈরি করেছে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক, যার ফলাফল শুক্রবার সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, নতুন মডেলটি অত্যন্ত ক্ষীণ মহাজাগতিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সিও চিহ্নিত করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে এই মডেলে থাকা স্প্যাশিওটেম্পোরাল ডি-নয়েজিং কৌশল প্রয়োগ করে ৫০০ ন্যানোমিটারের দৃশ্যমান আলো থেকে ৫ মাইক্রোমিটারের মধ্য-ইনফ্রারেড পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ কভারেজ পাওয়া গেছে। এতে আগের তুলনায় ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করার সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। এর মাধ্যমে বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ২০ থেকে ৫০ কোটি বছর পরের সময়কার ১৬০টির বেশি সম্ভাব্য গ্যালাক্সি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত নয়েজ-হ্রাসের কৌশলগুলো একাধিক এক্সপোজার স্ট্যাক-এর ওপর নির্ভর করে।
এসব পদ্ধতিতে নানা ধরনের সংকেত পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত বিবেচনা করা হয়। বাস্তবে, গভীর-মহাকাশের সংকেতগুলো স্থান-কাল উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তিত হয়। আসটেরিস গভীর-মহাকাশের চিত্রগুলোকে ত্রিমাত্রিক স্প্যাশিওটেম্পোরাল (স্থান-কাল সংক্রান্ত) ভলিউম হিসেবে পুনর্গঠন করে এই সমস্যার সমাধান করে। ‘ফটোমেট্রিক অ্যাডাপ্টিভ স্ক্রিনিং মেকানিজম’ এর মাধ্যমে, মডেলটি সূক্ষ্ম সংকেতের ওঠানামা শনাক্ত করে এবং দূরবর্তী নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির অতি-ক্ষীণ সংকেত থেকে সেগুলোকে আলাদা করে। গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের টেলিস্কোপে ব্যবহার করে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করবে।
ফয়সল/শুভ তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি