এপ্রিল ৫, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: আজ চীনজুড়ে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসব ‘ছিংমিং’। প্রায় ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো এই উৎসব কেবল পূর্বপুরুষদের স্মরণের দিন নয় বরং এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ত্যাগ, আনুগত্য এবং এক করুণ ইতিহাস।
এই উৎসবের জাঁকজমকের আড়ালে মিশে আছে রাজা ছোংয়ার এবং তার পরম বন্ধু চিয়ে চিথুইয়ের এক চরম ত্যাগের গল্প, যা আজও প্রতিটি চীনা নাগরিককে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
ইতিহাসের পাতায় ফিরে দেখা যায়, নির্বাসিত রাজকুমার ছোংয়ার যখন অনাহারে মৃত্যুর মুখে ছিলেন, তখন চিয়ে চিথুই নিজের উরুর মাংস কেটে স্যুপ তৈরি করে রাজকুমারকে খাইয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজকুমার যখন রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেন, তিনি চিয়েকে ভুলে যান। অভিমানে চিয়ে তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে পাহাড়ে চলে যান।
রাজা যখন তাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন, তখন তাকে বাধ্য করতে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেন। কিন্তু সেই আগুনের লেলিহান শিখা চিয়েকে বের করতে পারেনি, বরং তাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়। আগুন নেভার পর দেখা যায়, চিয়ে এবং তার মা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে পুড়ে মারা গেছেন।
তাদের মরদেহের পাশেই চিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে লিখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুটে ‘আমি আমার নিজের মাংস আপনার জন্য উৎসর্গ করেছি, কেবল এই কামনায় যেন আমার রাজা চিরকাল ‘স্বচ্ছ ও গৌরবোজ্জ্বল থাকে’।
নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজা ওই দিনটিকে ‘হানশি’ বা ‘কোল্ড ফুড’ দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। নিয়ম করা হয়, এই দিনে কেউ আগুন জ্বালাতে পারবে না এবং সবাইকে ‘কোল্ড ফুড’ খেয়ে থাকতে হবে। কয়েক শতাব্দী ধরে এই প্রথা কঠোরভাবে চলে।
প্রায় ৩০০ বছর আগে ছিং রাজবংশের সময় থেকে ‘হানশি’ প্রথাটি ধীরে ধীরে বর্তমানের ‘ছিংমিং’ উৎসবের সাথে মিশে যায়। আধুনিক যুগে এসে এটি এখন পূর্বপুরুষদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো এবং বসন্তকালকে স্বাগত জানানোর প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।
চীনে এখন ছিংমিং উৎসবকে ঘিরে বর্তমানে ৩ দিনের সরকারি ছুটি চলছে।
নাহার/ লুৎফর
তথ্য ও ছবি- সিনহুয়া/সিজিটিএন/চায়না ডেইলি