পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে যা করা উচিত: সি চিন পিং

পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে যা করা উচিত: সি চিন পিং

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি’র ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের চেতনা বা মূলনীতি অনুশীলনের জন্য চীনের প্রদেশ ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রধান নেতাদের নিয়ে বিশেষ গবেষণা ও আলোচনা-সভা গতকাল (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং।

 তিনি বলেন, "সিপিসি’র ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের চেতনা শেখা ও অনুশীলন করার কাজকে আরও গভীর করতে হবে। সবাইকে আরও ভালোভাবে ঐক্যবদ্ধ করে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির দৃঢ় নেতৃত্বে কার্যকরভাবে বিভিন্ন কাজ আঞ্জাম দিতে হবে এবং পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু সূচনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।" সি চিন পিং উল্লেখ করেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দেশ শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

 এটি ‘চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার’ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সুবিধা—যা সিপিসি’র নেতৃত্ব, সম্মিলিতভাবে বড় কাজ করা এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করার জন্য সহায়ক। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দীর্ঘ অনুশীলনে সিপিসি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন ও মজবুত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীভূত ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বকে সমুন্নত রাখা, বাস্তবতা থেকে এগিয়ে যাওয়ার নীতি মেনে চলা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা, জ্ঞানের সমন্বয় সাধন করা এবং পরিকল্পনায় আইনের শাসন বা বৈধতার নীতি মেনে চলা। অবশ্যই চীনের এই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা জোরদার করতে হবে এবং নতুন বাস্তবতার আলোকে এই সুবিধাটি ক্রমাগত বিকাশ ও বৃদ্ধি করতে হবে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, সিপিসি’র ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; তাই এটিকে সার্বিক, গভীর এবং সঠিকভাবে বুঝতে হবে। ‘সার্বিক’ মানে পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গিতে অধিবেশনের চেতনা উপলব্ধি করা এবং কোনো দিককে অবহেলা না করে সমস্ত বিন্যাসকে সামগ্রিকভাবে বোঝা। ‘গভীর বোধগম্যতা’ মানে কেবল কী ঘটছে তা জানা নয়, বরং কেন এটি ঘটছে তাও বুঝতে হবে; অর্থাৎ সত্যিকার অর্থে এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুধাবন করা। আর ‘নির্ভুলতা’ মানে নীতিগত সীমানা সঠিকভাবে উপলব্ধি করা—নিশ্চিত করা যে যা করা উচিত তা করতে হবে, যা করা যেতে পারে তা আমাদের সর্বোত্তম ক্ষমতায় করতে হবে এবং যা করা উচিত নয় তা একেবারেই করা যাবে না। সি চিন পিং আরও জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক শিল্প ব্যবস্থা নির্মাণ এবং শিল্প ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বা হালনাগাদ করা হলো পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে চীনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দায়িত্ব। বিভিন্ন অঞ্চল ও শিল্পের উচিত বুদ্ধিমত্তা, সবুজ উন্নয়ন এবং একীকরণের নীতিগুলো মেনে চলা। একইসাথে, তুলনামূলক সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে একটি গতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি খাত তার শক্তিতে অবদান রাখতে পারে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্যের দিকে একসাথে কাজ করতে পারে। উৎপাদনের একটি যুক্তিসঙ্গত অনুপাত বজায় রাখতে হবে এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুসারে ‘নতুন ধরণের উৎপাদনশীল শক্তি’র বিকাশ করা উচিত এবং প্রযুক্তিগত ও শিল্প উদ্ভাবনের গভীর একীকরণকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অবশ্যই আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণে স্বকীয়তা বা স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চক্রকে শক্তিশালী করতে হবে। একইসাথে, অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও উন্নয়নের প্রাণশক্তি বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চক্রকে প্রসারিত করতে হবে। সর্বোপরি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে আন্তঃসংযোগ এবং পারস্পরিক প্রচার ও প্রসার অর্জনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। (শুয়েই/তৌহিদ/জিনিয়া)

Rate This Article

How would you rate this article?

ED Desk

ED Desk

Staff Reporter

Experience in write about 5 years.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.