বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে ওঠা হাম মোকাবিলায় সরকার রোববার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে এই কর্মসূচির দেওয়া হচ্ছে টিকা। তার আগে টিকা পেয়ে থাকা শিশুদেরও রাখা হয়েছে এ তালিকায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে অন্তত ৯৪ শিশুর প্রাণ গেছে এবং প্রায় ৬ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে, বিশেষ করে শিশু হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর চাপ। জ্বর, কাশি এবং শরীরে র্যাশ নিয়ে আসা এসব শিশুর অনেকের অবস্থা গুরুতর।
চিকিৎসকরা জানান, যেসব শিশু আগে হামের টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিলে অনেক শিশুই সুস্থ হয়ে উঠছে।
রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকা দান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘হামের ভয়াবহতা কোভিড-১৯ এর চেয়ে কম নয়।’ তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। তাই এই বয়সী শিশুকে টিকার আওতায় আনার পদেক্ষপ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম ধাপ শেষে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া, অসুস্থ শিশুর ক্ষেত্রে টিকা না দিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ শিশুর টিকার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।
তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের টিকাদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাই মাসে আরও টিকা দেশে এলে পর্যায়ক্রমে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ঐশী/লুৎফর