লিউকেমিয়া চিকিৎসায় ‘আণবিক সেতু’ তৈরি করলেন চীনা বিজ্ঞানীরা

লিউকেমিয়া চিকিৎসায় ‘আণবিক সেতু’ তৈরি করলেন চীনা বিজ্ঞানীরা

চীনের বিজ্ঞানীরা লিউকেমিয়া চিকিৎসার একটি শক্তিশালী পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। নতুন পদ্ধতিটি ক্যান্সার কোষ লুকিয়ে পড়লেও চিকিৎসা কার্যকর রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সেল-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের বিজ্ঞানীরা এমন একটি ‘আণবিক সেতু’ তৈরি করেছেন, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী কোষ ও লিউকেমিয়া কোষের মধ্যে সংযোগকে শক্তিশালী করে। এর ফলে প্রতিরোধী কোষগুলো সহজে ক্যানসার কোষকে খুঁজে ধ্বংস করতে পারে। এই পদ্ধতি মূলত সিএআর-টি সেল থেরাপির উন্নত সংস্করণ। সাধারণত এই চিকিৎসায় রোগীর শরীর থেকে টি-সেল সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে জেনেটিকভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে সেগুলো ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। পরে সেগুলো আবার রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার আবার ফিরে আসে। কারণ ক্যান্সার কোষ তাদের পৃষ্ঠে থাকা সেই চিহ্ন বা মার্কার সরিয়ে ফেলে, যেটি দেখে সিএআর-টি কোষগুলো তাদের শনাক্ত করে।

ফলে ক্যান্সার কোষ লুকিয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। আগে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আবার ল্যাবে ফিরে গিয়ে টি-সেলগুলোকে নতুন করে জেনেটিকভাবে পরিবর্তন করতে হতো, যা ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। চীনা বিজ্ঞান একাডেমির ইনস্টিটিউট অব প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং-এর গবেষকরা এই সমস্যার সমাধানে ফেস নামে একটি নতুন সহায়ক অণু তৈরি করেছেন।

গবেষণায় তারা দেখতে পান, লিউকেমিয়া কোষ এবং সিএআর-টি থেরাপিতে ব্যবহৃত প্রতিরোধী কোষ—দুটির পৃষ্ঠেই সিডি৭১ নামের একটি প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই প্রোটিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত হতে পারে এমন ফেরিটিন নামের একটি প্রাকৃতিক প্রোটিন ব্যবহার করে ফেস তৈরি করা হয়। সিএআর-টি কোষ প্রস্তুতের সময় ফেস সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। পরে যখন এসব কোষ রোগীর শরীরে প্রবেশ করে, তখন ফেস কাছাকাছি থাকা লিউকেমিয়া কোষের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে দুই কোষকে শক্তভাবে একত্রে ধরে রাখে।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানীদের একজন ওয়েই ওয়েই বলেন, ‘ফেস মূলত একটি ক্ষুদ্র সেতু বা শক্তিশালী আঠার মতো কাজ করে। ক্যান্সার কোষ লুকিয়ে পড়লেও এটি সিএআর-টি কোষকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।’ ইঁদুরে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের মূল লক্ষ্যবস্তু প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলেও নতুন পদ্ধতিটি কার্যকর ছিল।

যেখানে প্রচলিত সিএআর-টি থেরাপি ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে ফেস-সিএআর-টি কোষ সফলভাবে ক্যান্সার কোষ খুঁজে ধ্বংস করেছে এবং পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ বেঁচে থাকার হার দেখা গেছে। ওয়েই ওয়েই বলেন, ‘এই আণবিক সেতু বা মলিকিউলার ব্রিজ এমন লিউকেমিয়া রোগীদের জন্য নতুন আশা তৈরি করতে পারে, যাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসা আর কাজ করছে না।’

ফয়সল/জেনিফার তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া

Rate This Article

How would you rate this article?

এম রহমান

এম রহমান

More than 3 years experience on reporting in various fields.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.