ফেব্রুয়ারি ৫: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট সি উল্লেখ করেন যে, গত বছর, আমরা ভালো যোগাযোগ বজায় রেখেছি এবং বুসানে একটি সফল বৈঠক করেছি, যা চীন-মার্কিন সম্পর্কের গতিপথকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং উভয় দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে স্বাগত জানিয়েছে। আমি চীন-মার্কিন সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেই। নতুন বছরে, ঝড়ের মধ্য দিয়ে চীন-মার্কিন সম্পর্কের জাহাজকে পরিচালনা করতে এবং সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যেতে এবং আরও বড় এবং উপকারী কাজ সম্পাদন করতে আমি আপনার সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজের উদ্বেগ রয়েছে, এবং চীনেরও নিজের উদ্বেগ রয়েছে। চীন তার কথার প্রতি সত্য এবং তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে।
যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় পক্ষই সমতা, শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সুবিধার মনোভাব বজায় রাখে এবং একে অপরের দিকে এগিয়ে যায়, ততক্ষণ আমরা একে অপরের উদ্বেগ সমাধানের উপায় খুঁজে পেতে পারি। এই বছর, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রয়েছে। চীনের পঞ্চদশ পাঁচশালা পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, আমেরিকা তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে এবং উভয় দেশ যথাক্রমে এপেক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভা এবং জি২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে। উভয় পক্ষের উচিত, আমাদের ঐক্যমত্য অনুসারে, সংলাপ এবং যোগাযোগ জোরদার করা, পার্থক্যগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা প্রসারিত করা এবং ছোট বলে ভালো কাজ করা থেকে বিরত থাকা নয়, এবং তুচ্ছ বলে মন্দ কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আমাদের প্রতিটি সমস্যা একে একে মোকাবেলা করা উচিত, ক্রমাগত পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা উচিত এবং সহাবস্থানের জন্য একটি সঠিক পথ তৈরি করা উচিত, ২০২৬ সালকে এমন একটি বছর করা উচিত যেখানে দুটি প্রধান শক্তি, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং জয়-জয় সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাবে।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন যে তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাইওয়ান চীনা ভূখণ্ড এবং চীনকে তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে। তাইওয়ানকে কখনও চীন থেকে আলাদা হতে দেওয়া হবে না। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সাবধানতার সাথে পরিচালনা করতে হবে। ট্রাম্প বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই মহান দেশ, এবং মার্কিন-চীন সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাথে আমার একটি দুর্দান্ত সম্পর্ক রয়েছে এবং আমি তার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমার এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন বাণিজ্য এবং অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে ইতিবাচক আলাপ-আলোচনা করেছে।
আমি চীনের সাফল্যে সন্তুষ্ট, এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন উন্নয়য়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের উদ্বেগকে আমি মূল্য দিই এবং আমার মেয়াদে একটি ভাল এবং স্থিতিশীল মার্কিন-চীন সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য চীনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে ইচ্ছুক।
(স্বর্ণা/হাশিম/লিলি)