ঢাকা, মে ৯, সিএমজি বাংলা: বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থ এবং সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একটি উচ্চপর্যায়ের গোল টেবিল বৈঠক। শুক্রবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটলে এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়জন করে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ এবং শাংহাই ইন্সস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (এসআইআইএস-ঢাবি)।
'আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব' শীর্ষক এই আলোচনায় দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সরবরাহ চেইন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ও চীনের চারজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞরা একমত পোষণ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও বাংলাদেশের উদ্বেগের জায়গাগুলো একই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এস এম আলী আশরাফ বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে 'শতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে পরিবর্তনশীল সময়' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনের ভঙ্গুরতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ ও চীনকে এই সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণে কাজ করতে হবে।
বিস এর রিসার্চ ডিরেক্টর এম আশিকুর রহমান বলেন, আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের জন্যই অপরিহার্য।
এসআইআইএস-এর সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক ড. লিউ চোংয়ি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে চীন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার ফলে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।
চীনের ইয়ুননান বিশ্ববিদ্যালয়ের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. লিউ পেং তিনি মূলত কৃষি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।
মডারেটর অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজা আলোচনার সমাপ্তি টেনে বলেন, বর্তমানের এই অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো রাষ্ট্রই একা চলতে পারে না। চীন ও বাংলাদেশের এই দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নাহার/ফয়সল
তথ্য ও ছবি- সিএমজি