মে ৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের কুয়াংসি হুয়াপিং ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত বিরল প্রজাতির একটি ক্ষুদ্রাকার সাপের সন্ধান পেয়েছেন। নতুন এই প্রজাতিটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশলের কারণে স্থানীয়ভাবে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ হিসেবে পরিচিতি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যা সংক্রান্ত জার্নাল ‘জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কুয়াংসি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের একদল গবেষক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৬০ মিটার উচ্চতায় একটি বনাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালানোর সময় সাপটির দেখা পান। পরবর্তীতে শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণ এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন এ প্রজাতিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত এই সাপটি লম্বায় মাত্র ২২ সেন্টিমিটার এবং এটি বিষহীন। বাদামী রঙের পিঠের ওপর সাতটি কালো ডোরাকাটা দাগ এবং আঁশের প্রান্তগুলো গাঢ় হওয়ার কারণে শরীরে একটি জালিকা সদৃশ নকশা তৈরি হয়েছে।
এটি মাটির নিচে বা পাতার স্তূপের নিচে থাকতে পছন্দ করে। মূলত কেঁচো এবং পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। সাপটি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির, ধীরগতিসম্পন্ন এবং প্রধানত নিশাচর।
সাপটির একটি অদ্ভুত আত্মরক্ষার কৌশল রয়েছে। কোনো শিকারি প্রাণী বা বাহ্যিক বিপদের আভাস পেলে এটি নিজের শরীরকে ইংরেজি ‘আট’ সংখ্যার মতো পেঁচিয়ে ফেলে এবং তার ভোঁতা লেজটিকে মাথার মতো উঁচিয়ে ধরে। এই কৌশলের ফলে শিকারি প্রাণী বিভ্রান্ত হয়ে লেজটিকে মাথা মনে করে আক্রমণ করে, আর এই সুযোগে সাপটি রক্ষা পায়। এই আচরণের কারণেই একে ডাকনামে ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ বলা হচ্ছে।
হুয়াপিং রিজার্ভে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান। এর আগে এখান থেকে 'হুয়াপিং লিফ লিটার টোড' নামক এক প্রকার ব্যাঙ আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বের ৯ হাজারতম নথিভুক্ত উভচর প্রজাতি।
শুভ/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।