আলোর মুখ দেখেনি দেশের প্রথম ধানের তুষ থেকে তৈরি জৈব বিদ্যুৎ কেন্দ্র

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গিয়াসপুরে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে।

আলোর মুখ দেখেনি দেশের প্রথম ধানের তুষ থেকে তৈরি জৈব বিদ্যুৎ কেন্দ্র
আলোর মুখ দেখেনি দেশের প্রথম ধানের তুষ থেকে তৈরি জৈব বিদ্যুৎ কেন্দ্র

এ এইচ সবুজ, গাজীপুর: দেশের প্রথম ধানের তুষ থেকে তৈরি জৈব বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়েছিল ২০০৮ সালে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম গিয়াসপুরে ছিলো এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবস্থান। যা পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি। 

তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা তপন চৌধুরী স্থানীয় শহীদ গিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাজার হাজার গ্রামবাসির উপস্থিতিতে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেছিলেন।

জানা যায়, এই বিদ্যুৎ প্ল্যানটি স্থাপনকারী কোম্পানি ড্রিমস পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক ছিলেন আসাদুজ্জামান মানিক। যিনি ছিলেন স্থানীয় একজন পোর্ট্রি খামারি। ওই সময়ে তার এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। আর এ কারণেই তিনি ধানের তুষ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপন করেছিলেন।

ড্রিমস পাওয়ার লিমিটেডের অধীনে তুষ দিয়ে জৈব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপনের পর দেখেছিলো আলোর মুখ। এদিকে ২.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করার পর গিয়াসপুরসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ২২০ থেকে ২৫০ টি পরিবার বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছিল। 

এই প্ল্যান্টে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছিলো প্রায় ৪.৩০ টাকা। ওই সময়ে গিয়াসপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্থানীয়দের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একমাত্র উৎস ছিল এই প্লানটি।

এদিকে আসাদুজ্জামান মানিকের মালিকানাধীন 'ড্রিমস পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড' গিয়াসপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ বিনিয়োগ করেছিল। ৬০ শতাংশ বিনিয়োগ এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে অনুদান হিসেবে এবং বাকি ২০ শতাংশ এসেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (IDCOL) থেকে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে। 

কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় এই বিদ্যুৎ প্ল্যানটি। যা পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি। সরেজমিন এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যেই বিকল/ অকেজো হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত না হওয়ায় মরিচা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মেশিন ও যন্ত্রপাতিগুলো।

Rate This Article

How would you rate this article?

ED Desk

ED Desk

Staff Reporter

Experience in write about 5 years.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.