টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোন সমঝোতায় ছাড়াই শেষ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্য দূর হয়নি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী, পারমাণবিক বিষয়, যুদ্ধে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরান ও এ অঞ্চলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা দেশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সচেতন এবং উভয়পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও খসড়া নথিবিনিময় করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার সকালে ইসলামাবাদে সম্মেলনে জানান, কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল দেশে ফিরছে। মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমাতে দেশটি দারুণ ভূমিকা রেখেছে।
ভ্যান্সের দাবি, আলোচনার প্রধান অচলাবস্থার কারণ ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা। যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বা সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা উন্নয়ন না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি চাইলেও তেমন কোনো সদিচ্ছা এখনো দেখা যায়নি। তিনি এটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এ বাস্তবতায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় দুই সপ্তাহের ভঙুর যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় ফের বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা।
সূত্র: সিএমজি বাংলা