ফেব্রুয়ারি ৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: ২০২৫ সালে চীনের শিল্পখাতের মুনাফা সংক্রান্ত তথ্য দেশটির অর্থনীতিতে একটি স্পষ্ট বাঁকবদলের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা তিন বছর পতনের পর বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত মুনাফা আবারও প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। এর আড়ালে আছে তাৎপর্যপূর্ণ এক রূপান্তর। এটি কোনো সাধারণ চক্রাকার পুনরুদ্ধার, কিংবা খরচ বা ব্যয় সংকোচনের ফলও নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্প পুঁজির কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস এবং পুরনো ও অকার্যকর উৎপাদন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার ফলে হয়েছে। সংক্ষেপে বললে, চীনের শিল্পখাতের মুনাফা ফিরেছে সামগ্রিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ফলে।
চীনের শিল্প পুনরুদ্ধার ঘটেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে নীতিগত ব্যাংকিং, লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সুবিধা, পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি এবং কৌশলগত উৎপাদন খাতে সহায়তার মাধ্যমে তারল্য বাড়ানো হয়েছে। তবে এই তারল্য সমানভাবে সব খাতে মুনাফা তৈরি করেনি, বরং পুঁজির চক্রাবর্তকে সহজ করেছে। যেসব খাত ও প্রতিষ্ঠান এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে, তারা আধুনিকায়নের সুযোগ পেয়েছে। যেগুলো পুরনো প্রযুক্তি ও কম উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো পিছিয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে।
২০২৫ সালের তথ্যেও সেই চিত্র স্পষ্ট। উৎপাদন খাতে মুনাফা বেড়েছে ৫ শতাংশ, যন্ত্রপাতি উৎপাদনে ৭.৭ শতাংশ, এবং হাইটেক উৎপাদনে ১৩.৩ শতাংশ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি বিনিয়োগপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফাও সংকোচন থেকে সামান্য প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে।
যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাত একাই সামগ্রিক শিল্প মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে ২.৮ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রেখেছে এবং মোট মুনাফার প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে আছে। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উৎপাদনে মুনাফা বেড়েছে ১৭০ শতাংশের বেশি, সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতিতে ১২৮ শতাংশ, আর বুদ্ধিমান সরঞ্জামে প্রায় ৫০ শতাংশ।
এই পুনরুদ্ধার কেবল দক্ষতা বাড়ার ফল নয়; বরং যেসব কারখানা, যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়া বর্তমান বাজার ও প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো বন্ধ হওয়ার সঙ্গেও যুক্ত, যার ফলে শিল্পভিত্তি আরও হালকা ও আধুনিক হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই মুনাফার সঙ্গে সব ধরনের মজুরিও বেড়েছে চীনে। অর্থাৎ, এটি শ্রম আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্জিত মুনাফা নয়; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিরই ফল।
এই সময়ে চীনে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক আয়ের পাশাপাশি লাভের প্রবণতাও উন্নত হয়েছে। উচ্চ মূল্য সংযোজন উৎপাদন, উচ্চ-প্রযুক্তি খাতে দ্রুত ইনভেন্টরি টার্নওভার এবং উন্নত মূলধনের ব্যবহার প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির পরেও মুনাফা বাড়াতে পারে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বৃদ্ধিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই সংস্থাগুলো সাধারণত তারল্য ও চাহিদার পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল।অর্থাৎ, শিল্প রূপান্তর আর শুধু বড় প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র-সমর্থিত কোম্পানিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের সংস্থাগুলোও লাভ করতে পারে।
সংক্ষেপে, ২০২৫ সালের মুনাফার তথ্যকে সাধারণ পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখার ভুল হবে। এটি দেখাচ্ছে যে, চীনের শিল্প অর্থনীতি সক্রিয়ভাবে তার পুঁজি ভিত্তি পুনর্গঠন করছে। তারল্য সম্প্রসারণ ব্যবহার করে পুরনো খাতগুলোকে বের করছে এবং নতুন খাতে প্রবেশ ত্বরান্বিত করছে।
সেই হিসেবে বলা যায় ২০২৫ সালের যাবতীয় শিল্প-মুনাফা তথ্যই উপসংহার নয়, বরং পরিবর্তনের একটি বিন্দু। এটি ইঙ্গিত দেয় যে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প রূপান্তর মাঝে কিছুটা ধীর হলেও থেমে যায়নি—এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে নতুন উৎপাদনশীল শক্তি এখন দৃশ্যমান ইতিবাচক আর্থিক ফলাফল তৈরি করছে।
ফয়সল/রাসেল
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন
কাঠামোগত পুঁজির পুনর্বিন্যাসই ফিরিয়েছে চীনের শিল্পখাতের মুনাফা
Connect With Us:
Advertisement
Our Editorial Standards
We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.
Fact-Checked
This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.
Expert Review
Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.
Regularly Updated
We regularly update our content to ensure it remains current.
Unbiased Coverage
We strive to present balanced information.