মার্চ ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: টোকিওতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে সম্প্রতি জাপানের একজন সামরিক কর্মকর্তার অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জাপান সরকার এই বিষয়টিকে কেবল ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করায় ক্ষোভ জানিয়ে তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তথ্য বলছে, গত মঙ্গলবার সকালে একজন ব্যক্তি নিজেকে জাপানি সামরিক বাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দেয়াল টপকে দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। এ সময় তিনি চীনা কূটনৈতিক কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে চীন সরকার জাপানের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দায়বদ্ধতামূলক ব্যাখ্যা চেয়েছে।
এদিকে, জাপানের প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক ইউজিন ফিউজ বলেন, এই ঘটনার পুরো দায়ভার জাপানেরই। টোকিও’র উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়া। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
দোশিশা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সেইকো মিমাকি ভিয়েনা কনভেনশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি দূতাবাস রক্ষা করা জাপানের দায়িত্ব। এই ব্যর্থতার জন্য জাপানের উচিত সততার সাথে সাড়া দেওয়া। কেবল ‘চীনকে সমালোচনার সুযোগ না দেওয়ার’ মানসিকতা জাপানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।
জাপানের প্রখ্যাত পত্রিকা ‘আসাহি শিমবুন’-এর সাবেক সাংবাদিক ইয়োইচি জোমারু সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, যৌক্তিকভাবে অন্তত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামনে এসে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। সরকার কি জেনেশুনেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
শুভ/লুৎফর
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।