মার্চ ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: কল্পনা করুন এমন এক স্কুল, যেখানে ছাত্ররা মানুষ নয়, বরং অত্যাধুনিক সব রোবট! মানুষের মতো হাত-পা বিশিষ্ট এই ‘মানবসদৃশ্য’ রোবটগুলো সেখানে শিখছে কীভাবে ঘর পরিষ্কার করতে হয়, কীভাবে কারখানায় কাজ করতে হয়, এমনকি অস্ত্রোপচারের টেবিলে চিকিৎসককে সাহায্য করার কৌশলও। গত শুক্রবার ‘২০২৬ চায়না সায়েন্স ফিকশন কনভেনশন’-এ বেইজিংয়ের শিচিংশান জেলায় অবস্থিত চীনের বৃহত্তম রোবট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তৃতীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি মূলত রোবটদের জন্য একটি বিশেষায়িত স্কুল। এখানে রোবটদের ‘এম্বেডেড ইন্টেলিজেন্স’প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা কেবল গবেষণাগারের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবের জটিল কাজগুলো করতে পারে।
এই কেন্দ্রটি তিনটি ধাপে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। প্রথম ধাপে ১০০টি চাকাযুক্ত রোবোটিক আর্ম বা যান্ত্রিক হাত মোতায়েন করার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়।
দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি পূর্ণাঙ্গ মানবসদৃশ্য রোবটকে ঘরোয়া ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়। এই রোবটগুলো দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ কার্যকর তথ্য তৈরি করে, যা বিশ্বজুড়ে এক অনন্য রেকর্ড।
তৃতীয় ধাপে রোবটগুলোকে শিল্প উৎপাদন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, হোটেল সার্ভিস, গৃহস্থালি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
রোবট যখন কোনো সূক্ষ্ম কাজ করে, তখন তার স্পর্শ অনুভুতি এবং নিখুঁতভাবে অঙ্গচালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কেন্দ্রটি মূলত এই কারিগরি বাধাগুলো দূর করতে কাজ করছে। তবে রোবটকে প্রশিক্ষিত করার জন্য প্রয়োজন বিশাল কম্পিউটিং পাওয়ার বা গণনা ক্ষমতা। এই চাহিদা মেটাতে একই ফোরামে ৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্স’ বা শিল্প জোট গঠন করা হয়েছে।
এই জোটের লক্ষ্য হলো তথ্য আদান-প্রদানের বাধাগুলো দূর করা এবং রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি করা। এর মাধ্যমে চীন এমন এক উদ্ভাবনী পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে রোবট কেবল যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হবে।
শুভ/লুৎফর
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি