চীনের স্থিতিশীলতা ও সংহতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতীক: সিজিটিএন জরিপ

চীনের স্থিতিশীলতা ও সংহতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতীক: সিজিটিএন জরিপ

মার্চ ২৩: চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সূচনাবছর অর্থাত্ ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ‘বোয়াও এশিয়া ফোরাম’ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির জটিল পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীন এখন আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল উন্নয়নের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আর চীনের এই “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও রোডম্যাপ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) অধীনস্থ সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৯৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে—নীতির স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা চীনের উচ্চমানের উন্নয়নের একটি অসামান্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

চীন তার উচ্চমানের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমানের উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করছে। চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বিশ্বের জন্য বাস্তব সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো প্রদান করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৭.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীনের এই বিশাল বাজার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, ৯১.২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, চীন তার উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও সামর্থ্য প্রকাশ করেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই পরিকল্পনা চলাকালীন চীন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। এ প্রসঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৪.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীনে প্রযুক্তির অবস্থান এখন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন শিল্পে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি উত্পাদন শিল্প ও ডিজিটাল রূপান্তরসহ একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। ৯৪.১ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, উচ্চমানের প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এখন আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলার কোনো সাময়িক উপায় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিকল্প।

‘চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সফল সমাপ্তি থেকে ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র শুভ সূচনা— চীন তার ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপান্তর করছে। জরিপে ৯৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চীনের এই কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য একটি কার্যকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের স্থিতিশীলতা ও সংহতি এখন আস্থার প্রতীক। ৮৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, একটি সুস্থ ও টেকসই চীনা অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে শক্তি যোগাতে থাকবে।

উল্লেখ্য, সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও রুশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে এই জরিপটি চালানো হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১১ হাজার ৪৯৩জন নেটিজেন এতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.