থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় ২০ মার্চ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর আয়োজনে থাইল্যান্ডে ‘বসন্তে চীন: চীনের উন্নয়ন এবং বিশ্বের সুযোগ’ শীর্ষক এক বৈশ্বিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার বিভাগের উপমন্ত্রী এবং সিএমজির মহাপরিচালক শেন হাই সিয়োং একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন। সংলাপে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত চাং চিয়েন ওয়েই, থাই সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান নিরাত ইয়ুপাকদি এবং থাইল্যান্ডের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী পিনিজ জারুসোম্বাত বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া, থাইল্যান্ডের জিও-ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (জিআইএসটিডিএ) পরিচালক পাকর্ন আপাফান্ত এবং সিপি গ্রুপের প্রধান চীন কৌশলগত উন্নয়ন ও সহযোগিতা কর্মকর্তা হুয়াং ওয়েই ওয়েই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। চীন ও থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের ২০০ জনেরও বেশি অতিথি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শেন হাই সিয়োং তাঁর ভাষণে বলেন, "বিশ্ব ভালো থাকলেই চীন ভালো থাকবে; আবার চীন ভালো থাকলে বিশ্ব আরও ভালো হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, চীনের ‘দুই অধিবেশন’ চলাকালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উচ্চস্তরের উন্মুক্তকরণ, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চক্রের সাথে সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, চীনের উন্মুক্তকরণের দরজা ক্রমশ আরও প্রশস্ত হবে। চলতি বছরের শুরু থেকেই চীনের নতুন মানসম্পন্ন উৎপাদনশীল শক্তির দ্রুত বিকাশ ঘটছে। সিএমজির বসন্ত উৎসবের গালা অনুষ্ঠানে রোবট শো থেকে শুরু করে ‘চলচ্চিত্র প্লাস পর্যটন’ এবং ‘চলচ্চিত্র প্লাস সুস্বাদু খাবার’-এর মতো অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন নতুন মডেল প্রমাণ করে যে, চীনে ক্রমাগত নতুন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থা হিসেবে সিএমজি তার সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং মিডিয়া রিসোর্স কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে চীনের আধুনিকায়নের সুফল সম্পর্কে জানাতে চায়। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে থাকা বন্ধুদের সাথে চীনের উচ্চমানের উন্নয়নের সুযোগ ভাগাভাগি করতে এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সিএমজি প্রস্তুত রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত চাং চিয়েন ওয়েই বলেন, গত বছর চীন ও থাইল্যান্ড তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। ওই সময় থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্ন ও রানী সুথিদা চীন সফর করেন এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতারা চীন-থাইল্যান্ড সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। সম্প্রতি চীনে সফলভাবে ‘দুই অধিবেশন’ সমাপ্ত হয়েছে, যেখানে চীনের ১৫তম পাঁচসালা পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। আন্তর্জাতিক সমাজ এই অধিবেশনের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানা গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের ১৫তম পাঁচসালা পরিকল্পনা কেবল চীনের উন্নয়নের জন্যই দিকনির্দেশনা দিচ্ছে না, বরং বিশ্বের বিকাশের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করছে। চীন সর্বদাই থাইল্যান্ডের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার। চীন থাইল্যান্ডের সাথে উন্নয়নের সুযোগ ভাগাভাগি করে নিতে এবং ‘চীন-থাইল্যান্ড অভিন্ন কল্যাণের সমাজ’ গঠনকে জোরদার করতে ইচ্ছুক।
নিরাত ইয়ুপাকদি বলেন, থাই সিনেট ও এর বিশেষ কমিটিগুলো চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এরই অংশ হিসেবে উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের জন্য থাইল্যান্ড চীনে একাধিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। চলতি বছর চীনের ১৫তম পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনাবছর। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, নতুন শক্তির যানবাহন ও মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে চীন ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা আসিয়ান দেশগুলোকেও উপকৃত করছে। থাইল্যান্ড চীনের সাথে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব সুসংহত করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা করতে আগ্রহী।
পিনিজ জারুসোম্বাত বলেন, চীনের উন্নয়ন কেবল চীনা জনগণের জন্যই সুবিধাজনক নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বর্তমানে থাইল্যান্ড-চীন সম্পর্ক একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন খাতে উচ্চমানের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। ‘চীন-থাইল্যান্ড অভিন্ন কল্যাণের সমাজ’ গঠনের এই উদ্যোগ অচিরেই সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাকর্ন আপাফান্ত বলেন, চীন বরাবরই সব দেশের সাথে তার সুযোগগুলো ভাগাভাগি করে আসছে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড ও চীন একটি পূর্ণাঙ্গ ও বহুমুখী সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করেছে। এর মধ্যে মহাকাশ অনুসন্ধান, যৌথভাবে অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং মহাকাশ খাতে দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হুয়াং ওয়েই ওয়েই বলেন, চীনের বিশাল বাজার সব দেশের জন্যই ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করেছে। চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো ও চায়না ইন্টারন্যাশনাল সাপ্লাই চেইন এক্সপো আয়োজন এবং হাইনানে 'শূন্য শুল্ক'-এর মতো একাধিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন তার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংলাপ অধিবেশন চলাকালে থাইল্যান্ডের ইলেকট্রিক ভেহিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (ইভ্যাট) সভাপতি সুরোজ সাংসনিট, থাই চেম্বার অফ কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ফাইচিট ভিবুনতানাসার্ন এবং হায়ার ইলেকট্রিক (থাইল্যান্ড) কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক তোং চিয়েনপিংসহ চীন ও থাইল্যান্ডের গণমাধ্যম, ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের অতিথিরা মতবিনিময় করেন। তাঁরা চীনের ১৫তম পাঁচসালা পরিকল্পনা এবং উচ্চমানের উন্নয়নের সুফল থেকে থাইল্যান্ড ও বিশ্বের জন্য তৈরি হওয়া সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন।
থাইল্যান্ডের প্রধান গণমাধ্যমগুলো (যেমন: থাই ন্যাশনাল, থাই পিবিএস, চ্যানেল ৭ টেলিভিশন, নেশন টেলিভিশন, থাই রাথ মিডিয়া ইত্যাদি) ছাড়াও পাকিস্তান ও নেপালের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই আয়োজনের খবর সম্প্রচারিত হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি