আজ (মঙ্গলবার) বিকালে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের গণমহাভবনে মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ফ্রান্সিসকো চাপোর সাথে এক বেঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তাঁরা এই মর্মে একমত হন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন- মোজাম্বিক অভিন্ন কল্যাণের সমাজ পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।
বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, চীন ও মোজাম্বিকের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ইতিহাস, পাহাড় ও সাগর অতিক্রম করেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর, দু’দেশ পরস্পরকে আস্থায় নিয়েছে ও সমর্থন করে আসছে, যা চীন-আফ্রিকা বন্ধুত্ব ও দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মডেলস্বরূপ। নতুন পরিস্থিতিতে, অব্যাহতভাবে দু’দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদার করা দু’দেশের জনগণের অভিন্ন প্রতাশ্যার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এটা বৈশ্বিক দক্ষিণের একতা ও সমন্বয় জোরদার এবং যৌথভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যুগের বড় প্রবণতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। চীন মোজাম্বিকের সাথে একযোগে চীন-আফ্রিকা সহযোগিতা ফোরামের বেইজিং শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন এবং ২০২৬ সালে ‘চীন-আফ্রিকা সাংস্কৃতিক বিনিময় বর্ষ’ উপলক্ষ্যে, হাতে হাত রেখে সম্মিলিতভাবে আধুনিকায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থা হচ্ছে দু’দেশের সম্পর্কের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক সুবিধা। দু’পক্ষের উচিত, পারস্পরিক মৌলিক স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়ে অব্যাহতভাবে একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে যাওয়া; সরকার, রাজনৈতিক দল, আইনসভাসহ নানান খাত ও স্তরে বিনিময় ঘনিষ্ঠতর করা; এবং পার্টি ও দেশশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কাজ জোরদার করা। চীন মোজাম্বিকের সাথে পারস্পরিক উন্নয়নের কৌশলগুলোর সংযোগ জোরালো করতে, দু’দেশের বাস্তব সহযোগিতার উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চায়।
সি চিন পিং আরও বলেন, চীন ও আফ্রিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর বিগত ৭০ বছর ধরে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির শত পরিবর্তনের মধ্যেও, একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব আফ্রিকার ওপরও পড়েছে। চীন আফ্রিকার সাথে একযোগে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে চায়; একযোগে শান্তি ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে কাজ করতে চায়। আফ্রিকার দেশগুলোর উন্নয়নে সাহায্য করতে ইচ্ছুক চীন।
বৈঠকের পর, দু’দেশের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়, চিকিত্সা ও গণমাধ্যমসহ নানান খাতের ২০টিরও বেশি সহযোগিতামূলক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। (আকাশ/আলিম/শিশির)