ঢাকা, ২১ এপ্রিল, সিএমজি বাংলা: একটি বিদেশি ভাষা কখনোই শুধু শব্দের সমষ্টি নয় এটি এক নতুন সংস্কৃতির দরজা, আবেগের ভাষা, আর হৃদয়ের গভীর সংযোগের সেতুবন্ধন। ঢাকার আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মার্জিয়া আক্তারের কাছে চীনা ভাষা শেখার গল্পটিও ঠিক তেমনই একটি স্বপ্নযাত্রা, যা শুরু হয়েছিল বিনোদন থেকে, আর আজ পৌঁছেছে জীবনের এক নতুন লক্ষ্যচূড়ায়।
সোমবার আইইউবিএটিতে আয়োজিত ‘চীনা ভাষা দিবস’ উদযাপনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, চীনা ভাষার প্রতি তার ভালোবাসার শুরু চীনা নাটক দেখার মধ্য দিয়ে। পর্দার গল্প তাকে মুগ্ধ করলেও, সাবটাইটেলের সীমাবদ্ধতা তাকে বারবার অনুভব করিয়েছে অভিনেতাদের কণ্ঠের প্রকৃত আবেগ তিনি পুরোপুরি ধরতে পারছেন না। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভাষাটি গভীরভাবে শেখার তীব্র আগ্রহ।
মার্জিয়ার এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন তার বড় বোন। সরকারি বৃত্তি নিয়ে কোরিয়ায় পড়াশোনা করতে যাওয়া এবং অল্প সময়েই ভাষাটিতে দক্ষ হয়ে ওঠা বোনকে দেখে তার ভেতরে জন্ম নেয় এক দৃঢ় প্রত্যয়। নিজের কাছেই প্রশ্ন রাখেন, 'তিনি পারলে আমি কেন পারব না?'
ঠিক সেই সময়েই আইইউবিএটিতে শুরু হয় চীনা ভাষা শেখার কোর্স। শুরুটা সহজ ছিল না, উউচ্চারণ, অক্ষর এবং আরও কিছু জটিলতা তাকে বিভ্রান্ত করে। তবে শিক্ষকদের সহায়তায় ধীরে ধীরে সব বাধা কাটিয়ে ওঠেন তিনি। উইচ্যাটে প্রথমবার নিজের পরিচয় চীনা ভাষায় দিতে পারার ছোট্ট অর্জনটিই হয়ে ওঠে তার বড় অনুপ্রেরণা।
তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন আসে একটি বিশেষ মুহূর্তে। বিমানবন্দরে বোনকে বিদায় জানাতে গিয়ে এক চীনা নারীর সঙ্গে তার কথোপকথন হয়। ভাঙা ভাঙা চীনা ভাষায় কথা বলার পরও ওই নারী হাসিমুখে প্রশংসা করে বলেন, 'তোমার চীনা ভাষা খুব ভালো, এগিয়ে যাও।' এই ছোট্ট উৎসাহই তাকে আরও সাহসী করে তোলে।
এরপর নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে মার্জিয়া অংশ নেন ‘চাইনিজ ব্রিজ’ প্রতিযোগিতায়। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতার ভিডিও দেখে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। হাতে ছিল মাত্র এক মাস সময়। উচ্চারণ নিয়ে কঠিন লড়াই চললেও তার মনে ছিল একটাই দৃঢ় বিশ্বাস 'হয় বড় কিছু করো, না হয় চেষ্টা করতে করতেই নিজেকে গড়ে তোলো'।
মার্জিয়ার এই গল্প শুধু একটি ভাষা শেখার নয়, বরং স্বপ্ন, সাহস এবং আত্মবিশ্বাস দিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অনন্য উদাহরণ।
নাহার/ফয়সল
তথ্য ও ছবি: সিএমজি