এপ্রিল ২১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বইপ্রেমী সমাজ গড়ে তুলতে চীনজুড়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ছাপ পড়তে শুরু করেছে চীনাদের পাঠাভ্যাসে। গত কয়েক বছরে কাগুজে বইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে ডিজিটাল পাঠক।
সম্প্রতি চীনে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া বইপড়া সপ্তাহের পরিপ্রেক্ষিতে চিয়াংসি প্রদেশের নানছাংয়ে হয়ে গেল পঞ্চম জাতীয় পাঠ-সম্মেলন। সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চীনের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বইপড়ুয়ার হার ৮২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি নিয়মিত ই-বুক, অনলাইন সাহিত্য, অডিও বুক ও ভিডিও ভিত্তিক রিভিউ পড়ছেন।
২০২৫ সালের চীনা ডিজিটাল পাঠ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই বছরের শেষে চীনে ডিজিটাল বইয়ের পাঠকসংখ্যা ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা এর আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। ওই বছর এই বিপুল সংখ্যক পাঠকের পড়া ও শোনার তালিকায় ছিল মোট ৭ কোটি ডিজিটাল উপকরণ।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চলাচলের সময় গাড়িতে অডিও বুক শোনার অভ্যাসের ফলেও চীনে বইপড়ার হার বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে পাঁচ বছরে চীনের ডিজিটাল পাঠের বাজার ৩ হাজার ২৫ কোটি ইউয়ান থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের এই প্রবৃদ্ধির একটা বড় কারণ অনলাইন সাহিত্য এখন একটি বড় সাংস্কৃতিক শিল্পে পরিণত হয়েছে। ইউয়েন গ্রুপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সি লানফাং বললেন, ‘পড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো গল্পকে সীমানা ভেঙে দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করতে দেওয়া।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন আবার কনটেন্টগুলো ক্রমে অফলাইন সাংস্কৃতিক উপভোগ এবং মিথস্ক্রীয় অভিজ্ঞতা আস্বাদনের দিকেই যাচ্ছে। পাশাপাশি, নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ শক্তিশালী করা বা উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে বই পড়ার গুরুত্ব স্বীকার করার প্রবণতাও বেড়েছে।
ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও, প্রথাগত বই পাঠের অভ্যাসেও কিন্তু ভাটা পড়েনি। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এখনও ছাপা বই পড়ছেন।
চায়না পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান উ শুলিন বিশ্বাস করেন, এই ডিজিটাল যুগেও ব্যক্তিগত বিকাশ, কর্মজীবনে সাফল্য এবং নৈতিক উন্নতির ভিত্তি হলো পাঠের জগতে গভীরভাবে ডুব দেওয়া। পাঠকদের অনিয়মিত ও আংশিক ব্রাউজিংয়ের মোহ কাটিয়ে গভীর পাঠের অভিজ্ঞতা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ফয়সল/হাশিম
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি।