সবুজ পাহাড় আর নীল জলরাশির মায়াবী চাদরে ঢাকা নান’আও দ্বীপ। কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থিত এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়,বিশেষ করে বসন্ত উৎসবের ছুটিতে এখানে ভিড় জমে প্রকৃতিপ্রেমীদের। চীনের মূল ভূখণ্ডের কুয়াংতং প্রদেশের এই দ্বীপটি এখন হয়ে উঠেছে দেশটির সমুদ্রসীমা রক্ষার এক অতন্দ্র দুর্গ।
পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নৌসেনারা এখানে দিনরাত কড়া পাহারায় নিয়োজিত। তাইওয়ান অঞ্চলের ঠিক পাশেই এবং তাইওয়ান প্রণালীর দক্ষিণ মুখে অবস্থিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই দ্বীপটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত ৭৫ বছর ধরে এখানে একটি পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ স্টেশন পরিচালনা করছে চীনা নৌবাহিনী। স্টেশনে কর্মরত সৈনিক ওয়াং ছ্যাংইউ বলেন, *"আমাদের এখানে বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত ডিউটি চলে। আমরা এমনভাবে সতর্ক থাকি যেন প্রতিটা মুহূর্তই যুদ্ধের ময়দান। মুহূর্তের জন্যও নজর এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই।"* একদিকে সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, অন্যদিকে সেনাদের কাছে এটি কঠিন এক রণক্ষেত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় মাপের সামরিক মহড়ায় সফলভাবে অংশ নিয়েছে এখানকার সেনারা। প্রতিকূল পাহাড়ী পরিবেশ আর সমুদ্রের বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও তাদের প্রশিক্ষণ ও কাজ কখনো থেমে থাকে না। আরেক সৈনিক লিউ চিয়াচিং গর্বের সাথে জানালেন তাদের সংকল্পের কথা। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে বা দুর্গম দ্বীপে আমাদের মতো সেনারা যারা মোতায়েন আছে, তারা প্রত্যেকেই মাতৃভূমির অখণ্ড উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের দায়িত্ব অত্যন্ত কঠোর এবং আমরা তা পালনে বদ্ধপরিকর।’
তাইওয়ান প্রণালীর এই কৌশলগত অবস্থানে দাঁড়িয়ে একদিকে পর্যটকরা যখন সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই পাহাড়ের চূড়ায় অতন্দ্র চোখে শত্রু বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এই নৌসেনারা। সৌন্দর্য আর রণপ্রস্তুতির এমন সহাবস্থান নান’আও দ্বীপকে করে তুলেছে অনন্য।
সূত্র: সিএমজি