Tuesday, April 21, 2026
Live

বইপড়া সংস্কৃতিতে নতুন জোয়ার চীনে

বইপড়া সংস্কৃতিতে নতুন জোয়ার চীনে

ফয়সল আবদুল্লাহ

চীনে আগের চেয়ে বেড়েছে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষও নিচ্ছে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর নানা কর্মসূচি। যার ফল মিলছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

শানতোং প্রদেশের লিনয়ি শহরের হাংথৌ গ্রামের বাসিন্দা চৌ ছিংকুই। এই উদ্যোগে একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে দারিদ্র্যের কারণে তার প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সহযোগিতায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

২০২১ সালে চৌ ও তার ছয় বন্ধু মিলে ৮০ হাজার ইউয়ান সংগ্রহ করে একটি পুরনো বাড়িকে গ্রন্থাগারে রূপান্তর করেন। ওটা এখন স্থানীয় শিশুদের বই পড়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এখন।

গ্রন্থাগারটির নাম রাখা হয়েছে ‘সিয়ুয়ান লাইব্রেরি’, যার অর্থ ‘উৎস স্মরণ করা’। এখন সেখানে শিশুতোষ গল্প থেকে শুরু করে ক্লাসিক বইসহ ২০ হাজারের বেশি বই রয়েছে।

গ্রন্থাগারটি পরিচালনা করেন চৌর ৭০ বছর বয়সী বাবা। স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন তিনি। আশপাশের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বই সাজানো, তালিকা তৈরি ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দিকনির্দেশনা দেন।

গ্রন্থাগারটিতে এখন নিয়মিত বই পড়তে আসেন ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। দর্শনার্থীর খাতায় ইতোমধ্যে উঠেছে এক হাজারের বেশি নাম।

শাংহাই চিয়াওথোং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চৌ। নিয়মিত অনলাইনে গ্রামের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন এবং ছুটিতে গ্রামে গিয়ে তাদের সঙ্গে পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তার এই উদ্যোগের ফলে গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহও বাড়ছে। ২০২৪ সালে গ্রাম থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

চীনে পাঠাভ্যাস বাড়াতে জাতীয় পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বই পড়ার হার ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশটিতে বর্তমানে কাউন্টি ও এর চেয়ে বড় অঞ্চলগুলোয় তিন হাজার ২০০টির বেশি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৮ হাজার শাখা লাইব্রেরি ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীনে প্রতি বছরের এপ্রিল মাসের চতুর্থ সপ্তাহকে ‘জাতীয় পাঠ সপ্তাহ’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে বইমেলা, প্রদর্শনী ও পাঠ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের দুটি অধিবেশন চলাকালে, যা দেশের শীর্ষ আইনি ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থাগুলোর বার্ষিক সমাবেশ প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এমন একটি বইপ্রেমী সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে মানুষ ব্যাপকভাবে বই পড়বে, ভালো বই বেছে নেবে এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণ করবে।

শনিবার বেইজিং-এ ২০২৬ সালের বসন্ত বইমেলা শুরু হয়েছে। চলবে ১৭ মে পর্যন্ত। এটি শহরের প্রথম বৃহৎ সাংস্কৃতিক সমাবেশ যা মূলত বইয়ের দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত। চিয়াংসি প্রদেশের নানছাংয়েও চলতি বছরের 'জাতীয় পাঠ সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বইমেলা ও প্রদর্শনীসহ বই কেন্দ্রিক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.