গতকাল (বুধবার) বেইজিংয়ের গণমহাভবনে, সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিচ মেথ্সের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে লি ছিয়াং বলেন, চীন-জার্মানি সম্পর্ক ও সহযোগিতা ইতোমধ্যে সামনে এগিয়েছে এবং অনেক নতুন ফলাফল অর্জিত হয়েছে। চীন জার্মানির সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে, সংলাপ ও যোগাযোগ জোরদার করতে, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করতে, চীন-জার্মানি সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের অর্থকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করতে, দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর ও আরও বাস্তব সহযোগিতা প্রচার করতে, এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বাড়াতে ইচ্ছুক।
লি ছিয়াং আরও বলেন, চলতি বছরটি চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনাবর্ষ। আগামী পাঁচ বছর চীন-জার্মানি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। উন্নয়ন-কৌশল এবং নীতি যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সর্বোত্তম করতে, এবং আরও নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পয়েন্ট গড়ে তুলতে সরকারি পরামর্শের মতো সংলাপব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করতে ইচ্ছুক বেইজিং।
চীন আরও উচ্চমানের জার্মান পণ্য আমদানি করতে, জার্মানিতে বিনিয়োগের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উত্সাহিত করতেও ইচ্ছুক। বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি ও উল্লেখযোগ্য প্রভাবশালী প্রধান শক্তি হিসাবে, চীন ও জার্মানির যৌথভাবে বহুপাক্ষিকতা ও মুক্ত বাণিজ্যকে সমর্থন করা উচিত, আরও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত, এবং বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও ইতিবাচক শক্তি যোগান দেওয়া উচিত। জবাবে চ্যান্সেলর মেথ্স বলেন, জার্মানি ও চীন ভৌগোলিকভাবে একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকলেও, তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা প্রচুর।
জার্মানি স্পষ্টতা ও উন্মুক্ততার চেতনায়, চীনের সাথে উচ্চ-স্তরের বিনিময় জোরদার করতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখতে, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুষম ও টেকসই উন্নয়নকে উত্সাহিত করতে, এবং সবুজ রূপান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক। জার্মানি বহুপাক্ষিকতা ও মুক্ত বাণিজ্যকে যৌথভাবে সমর্থন করার জন্য, চীনের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতেও ইচ্ছুক।
সূত্র: সিএমজি