বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ের গণমহাভবনে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিচ মেথ্স, চীন-জার্মান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন। এতে বিভিন্ন চীনা ও জার্মান উদ্যোগের ৬০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় লি ছিয়াং বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
একতরফাবাদ ও সুরক্ষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এমনকি, কিছু দেশ ও অঞ্চল আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শৃঙ্খলার মারাত্মক ক্ষতি করছে। পরিস্থিতি যত তীব্র হবে, চীন ও জার্মানির সহযোগিতা তত বেশি জোরদার করা উচিত। ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল সহযোগিতাই সর্বোত্তম সমাধান; নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কেবল উন্নয়নই অপরিহার্য বিকল্প। লি ছিয়াং জোর দিয়ে বলেন, চীন ও জার্মানির অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখাচ্ছে। চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়কালে, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত সম্ভাবনার সূচনা করবে। চীন ও জার্মানির মধ্যে পরিপূরক অর্থনৈতিক ও শিল্প সুবিধার মৌলিক ধরণ অপরিবর্তিত রয়েছে, সহযোগিতা প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি। যৌথ উন্নয়নকে আরও ভালোভাবে উত্সাহিত করার জন্য, একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক-সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।
উভয় পক্ষ উচ্চ স্তরের পারস্পরিক সুবিধা এবং জয়-জয় ফলাফল অর্জনের জন্য, তিনটি মূল ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে পারে: প্রথমত, ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করা। উভয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও রাসায়নিকের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে পারে; দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারে; তৃতীয়ত, চীন উভয় দেশের প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্ভাবনী সম্পদের দ্বিমুখী প্রবাহকে সমর্থন করবে এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। চীন অবিচলভাবে উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণ প্রসারিত করবে এবং জার্মানির প্রতিষ্ঠানগুলোসহ বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসঙ্গত চাহিদা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে।
চীন আশা করে, জার্মান সরকার একটি উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে, যা উভয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার নীতি অনুসারে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবে। এ সময় জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, তার দেশ ও চীন পরস্পরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গতিশীল। দু’দেশ বহু বছর ধরে উচ্চ স্তরের উন্নয়ন বজায় রেখেছে, কার্যকরভাবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উত্সাহিত করছে। জার্মানি চীনের সাথে অটোমোবাইল, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জার্মানি তার ব্যবসা পরিবেশ ক্রমাগত উন্নত করতে ইচ্ছুক এবং জার্মানিতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার জন্য আরও চীনা প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানায়।
সূত্র: সিএমজি