মার্চ ২৪: সম্প্রতি ব্লু মবার্গের একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের গাড়ি নির্মাতারা জার্মান ইঞ্জিনিয়ারিং, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের স্কেল ইকোনমি বা জাপানি গাড়ির নির্ভরযোগ্যতাকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল। তবে বর্তমানে সেই দৃষ্টি চীনের দিকে নিবদ্ধ। চীনা কোম্পানিগুলোর দ্রুত উন্নয়ন চক্র, সফটওয়্যার-কেন্দ্রিক ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী উত্পাদন খরচ বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল শিল্পের কাঠামো পুনর্গঠন করছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘চীনের গতি’এখন বিশ্ব অটোমোবাইল শিল্পের নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। চীনা কোম্পানিগুলো শিল্পের প্রচলিত নিয়মগুলো পুনর্লিখন করছে। সংক্ষিপ্ত উন্নয়ন চক্র, গভীরভাবে সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল, সাহসী উদ্ভাবনী ধারণা এবং ‘ওভার-দ্য-এয়ার’(ওটিএ) প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির ফাংশনগুলোর রিয়েল-টাইম আপডেট নিশ্চিত করে তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকছে। ঐতিহ্যবাহী গাড়ি নির্মাতারা, বিশেষ করে ইউরোপীয় গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে সহযোগিতার পথ খুঁজছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীনা কোম্পানিগুলোর বড় সুবিধা হলো ‘শূন্য থেকে শুরু’ করার সক্ষমতা। যেখানে প্রথাগত নির্মাতারা একটি নতুন মডেলের পরিকল্পনা থেকে বাজারজাতকরণে ৫-৭ বছর সময় নেয়, সেখানে চীনা প্রতিযোগীরা মাত্র ২ বছরের মধ্যে নতুন মডেল বাজারে আনতে পারছে। এ ছাড়া চীনের অটোমোবাইল খাতের কর্মীরা সাধারণত তরুণ ও গতিশীল, যা সেখানে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কোম্পানিগুলোকে প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনে বাধ্য করছে এবং অদক্ষ প্রক্রিয়াগুলো নির্মূল করছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল গবেষণা ও উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি কোম্পানিগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা— হয় পতনশীল ব্যবসায়িক মডেলে আটকে থাকা, অথবা চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।
সূত্র: সিএমজি