উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ও পাকিস্তানের নেওয়া '৫-দফা প্রস্তাব' সবার জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছে চীন। এই উদ্যোগে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অংশগ্রহণের জন্য স্বাগত জানানো হয়েছে। আজ (বুধবার) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এ কথা জানান।
মুখপাত্র জানান, গত মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছান। বৈঠক শেষে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশ দুটি একটি ৫-দফা প্রস্তাব বা উদ্যোগ ঘোষণা করে।
এই প্রস্তাবের মূল সারসংক্ষেপকে "এক বিরতি, দুই আলোচনা এবং তিন নিশ্চিতকরণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এর প্রধান ৫টি বিষয় হলো:
- ১. অবিলম্বে শত্রুতা বা সংঘাত বন্ধ করা।
- ২. যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনা শুরু করা।
- ৩. বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- ৪. আন্তর্জাতিক নৌ-পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- ৫. জাতিসংঘ সনদের প্রাধান্য নিশ্চিত করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ইরান ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যুদ্ধ এক মাস ধরে চলছে। এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে, যা আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করছে, যা কোনো দেশের স্বার্থেরই অনুকূল নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, 'গ্লোবাল সাউথ'-এর গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ হিসেবে চীন ও পাকিস্তান এই যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত আহ্বান জানিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে বৃহত্তর ঐকমত্য তৈরি করা এবং বর্তমান উত্তেজনা প্রশমিত করে উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
সূত্র: সিএমজি