চীন তার ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) সামনে রেখে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, উচ্চমানের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এই খাতকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি, নতুন মানের উৎপাদনশীল শক্তির উত্থান এবং দক্ষ শ্রমশক্তির বাড়তি চাহিদা—এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় চীন তার কর্মীবাহিনীকে আরও বিশেষায়িত ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলছে।
বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন খাতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংতোং প্রদেশে এ পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়। এখানকার কারিগরি কলেজগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজাচ্ছে। এই মডেলকে বলা হচ্ছে ‘ভর্তি-ই কর্মসংস্থান’ পদ্ধতি—অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়াই কর্মজীবনে প্রবেশের প্রথম ধাপ।
দেশের সীমানা ছাড়িয়েও চীনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিস্তৃত হচ্ছে। ২০২৫ সালের চীন-উজবেকিস্তান বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ, নতুন শক্তিচালিত যান ও যন্ত্র তৈরির মতো খাতে ১৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষার এই রূপান্তর শুধু শিল্প উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য নয়; এটি তরুণদের মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও ঊর্ধ্বমুখী সামাজিক গতিশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
সূত্র: সিএমজি