সি চিন পিং ও তুর্কমেনিস্তানের পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বৈঠক

সি চিন পিং ও তুর্কমেনিস্তানের পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সফররত তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় নেতা এবং পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদুভ। আজ (বুধবার) বিকেলে বেইজিংয়ের তিয়াও ইয়ু থাই রাষ্ট্রীয় অতিথিভবনে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট সি জানান, সম্প্রতি চীনে 'জাতীয় গণ-কংগ্রেস' এবং 'চীনা গণ-রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলন' (এনপিসি ও সিপিপিসিসি)-এর সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এই সম্মেলন পর্যালোচনার মাধ্যমে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা গৃহীত হয়েছে। এই পরিকল্পনার সফল রূপায়ণ চীনের সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও কল্যাণকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তুর্কমেনিস্তানের প্রশংসা করে সি চিন পিং বলেন, "স্বাধীনতার গত ৩৫ বছরে তুর্কমেনিস্তান নিজেদের জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নের পথ তৈরি করেছে।" নতুন চীনা বর্ষের (অশ্ব বর্ষ) সূচনায় তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার পরিকল্পনা আলোচনা করতে, উন্নয়নের সুযোগ ভাগাভাগি করতে এবং অভিন্ন লক্ষ্যের একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার কাজকে আরও সুদৃঢ় করতে চীন প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

প্রেসিডেন্ট সি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক সমর্থনই হলো চীন-তুর্কমেনিস্তান ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যতই পরিবর্তিত হোক না কেন—জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং স্থায়ী নিরপেক্ষতার নীতির প্রশ্নে চীন সর্বদা তুর্কমেনিস্তানকে সমর্থন জোগাবে। একই সঙ্গে তারা তুর্কমেনিস্তানের একজন বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

বৈঠকে উভয় নেতাই 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' এবং 'সিল্ক রোড পুনরুজ্জীবন' কৌশলের সমন্বয় ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হন। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে সহযোগিতা প্রসারিত করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং সংযোগ, কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও পরিচ্ছন্ন শক্তিসহ জ্বালানি-বহির্ভূত খাতগুলোতে সহযোগিতা বিস্তৃত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, চীনে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান বেরদিমুহামেদুভ। তিনি এনপিসি ও সিপিপিসিসি-এর সফল আয়োজনের জন্য চীনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "চীনের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন সমগ্র বিশ্বের জন্যই মঙ্গলজনক। একটি উন্নত চীন মানেই একটি উন্নত বিশ্ব।"

প্রেসিডেন্ট সি’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে তুর্কমেনিস্তান ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে বিকশিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, তুর্কমেনিস্তান-চীন সহযোগিতা আজ উভয় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উপাদানে পরিণত হয়েছে বলেও জানান এই তুর্কমেন নেতা।

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও উপস্থিত ছিলেন।

লিলি/তৌহিদ/রুবি

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.