এপ্রিল ১১: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আজ (শনিবার) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা করেছে। গতকাল (শুক্রবার) লেবাননের প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর বিষয়ে কথা বলতে লেবানন ও ইসরায়েল আগামী ১৪ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তাদের প্রথম বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা একে অপরের সাথে সংযুক্ত হলেও এগুলো স্বাধীন প্রক্রিয়া।
নিংসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না-আরব স্টেটস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিউ সিন ছুন বলেন, স্বল্প মেয়াদে এই দুটি আলোচনা থেকে ফলপ্রসূ হওয়া খুবই কঠিন। এর কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসছে এবং বর্তমান আলোচনায় অনেকগুলো মৌলিক বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু এবং তথাকথিত প্রক্সি বা এজেন্ট সমস্যার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান করা।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিগত ৪৭ বছরে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবি। এসব সমস্যা দুই সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দাবিগুলো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়ায় আপোসের সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায়।
ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত ১৯৮২ সাল থেকে চলছে এবং উভয় পক্ষ প্রায় চার-পাঁচ দশক ধরে লড়াই করছে। এবার হিজবুল্লাহ সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ছয়টি ডিভিশন সেনা মোতায়েন করেছে। লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা সামরিকভাবে দখল করার জন্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জোরালো দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ আশা করছে যে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করবে। হিজবুল্লাহ এই সংঘাতের মাধ্যমে ইসরায়েলের সাথে তাদের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বেরও অবসান ঘটাতে চায়, তাই এই দুটি আলোচনা মূলত স্বাধীন। তবে, এই যুদ্ধে হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততা ইরানের সমর্থন ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তাই ইরানও তার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়ের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে, যার ফলে এই দুটি আলোচনার মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা