গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও নামা বাজার এলাকায় ঘোরশ্বাব জলমহাল থেকে সেলুনের জন্য পানি সংগ্রহে গিয়ে নিখোঁজ হন মাদব চন্দ্র বর্মন (৩০) নামের এক যুবক।
এদিকে দীর্ঘ ১৫ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর জলমহাল থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ যুবক মাদবকে। বেলা ১১ থেকে কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী এবং টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা দীর্ঘ ৫ ঘন্টা অভিযানের পর সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে।
এছাড়াও সকাল সাড়ে আটটা থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার নৌকা ও জাল দিয়ে মাদবকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দীর্ঘ সময় উদ্ধারের চেষ্টা করেও কোন হদিস পায়নি স্থানীয় জেলে ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এক পর্যায়ে স্থানীয়রা সন্ধ্যা থেকেই নৌকাযোগে টহল দিতে থাকে ঘোরশ্বাব জলমহালে নিখোঁজ যুবক মাদবের খোঁজে। লাশ উদ্ধারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় নরসিংদীর কবিরাজ আরজু মিয়ার সঙ্গে। আর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্থানীয়দের সাথে মাদবের মরদেহ উদ্ধারে যোগ দেয় কবিরাজ আরজু মিয়া।
কবিরাজ আরজু মিয়ার তৎপরতায় এক পর্যায়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে খোঁজ নিলে নিখোঁজ যুবক মাদবের। পরে বড়শি চালানের মাধ্যমে নিখোঁজ মাধবের লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়া কয়েকজন জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে মাদবকে জলমহাল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কবিরাজ আরজু মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই ডুবুরির মতো কাজ করি। যদিও আমি ডুবুরি দলের কোন সদস্য না। আমার পেশা বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরা। এর পাশাপাশি আমি কবিরাজী কাজ করে থাকি।
মাদবকে উদ্ধারে আমি বড়শি চালান দেই। একপর্যায়ে বড়শিতে প্রথমে তার কাপড় আটকে যায় এবং পরে বড়শি টান দেয়াতে ধারণা করি যে ভারি কোন বস্তু রয়েছে। একপর্যায়ে আমি বড়শির মাধ্যমে কোন মানুষের হাত ছাড়াই মাদবের মরদেহ পানির নীচ থেকে নৌকায় তুলতে সক্ষম হই।
এ বিষয়ে, কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জানান, উৎসুক জনতার আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা কোনভাবেই আইনের ব্যত্যয় ঘটাতে পারবো না। দু'দিন পর উৎসুক জনতার আবেগ এমনিতেই কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, দু'দিন পর পরিবার থেকে যদি কেউ বাদী হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে। যদি লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই সৎকার করা হয়। তাহলে পরবর্তী সময়ে আইনি ঝামেলা হবে। তাই এই লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।