মে ৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী টোকিও ট্রায়ালের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত নতুন নথি আবারও জাপানি সামরিকবাদের ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধকে সামনে নিয়ে এসেছে। শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন চিয়ান।
তিনি জানান, দূরপ্রাচ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সামরিক আদালত-আইএমটিএফই’র কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ চীনা অনুবাদ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টোকিও ট্রায়ালে সহকারী প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন আইনজীবী ডেভিড নেলসন সাটন-এর হাতে লেখা ব্যক্তিগত ডায়েরিও প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
লিন চিয়ান বলেন, টোকিও ট্রায়ালের এই নথিগুলো যুদ্ধাপরাধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিচারকার্যে মোট ৮১৮টি আদালত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৪১৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং ৪ হাজার ৩৩৬টি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এসব কার্যক্রমের প্রায় ৫০ হাজার পৃষ্ঠার ইংরেজি ট্রান্সক্রিপ্ট সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপানি সামরিকবাদের সংঘটিত নৃশংসতা প্রকাশ্যে আসে। আদালত রায় দেয় যে, সামরিকবাদী জাপান আগ্রাসী যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল এবং ফ্যাসিবাদী যুদ্ধাপরাধীদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন,, যুদ্ধের ৮০ বছর পরও জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো অতীতের আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং তারা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে এবং জাপানি জনগণের মধ্যে ভুল ইতিহাসচর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইতিহাস ও সত্য কখনও মুছে ফেলা যাবে না। ন্যায়বিচার ও নীতিকে বিকৃত করা যাবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয়।
চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, বিশ্বে শান্তিপ্রিয় মানুষ কখনও যুদ্ধাপরাধের রায় পাল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা কিংবা জাপানি নব-সামরিকবাদের পুনরুত্থান মেনে নেবে না।
নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি- সিনহুয়া।