Sunday, May 10, 2026
Live

‘মায়ের আদর্শে গড়া সি চিন পিংয়ের জীবন

‘মায়ের আদর্শে গড়া সি চিন পিংয়ের জীবন

‘মা’ কেবল একটি সম্পর্কের নাম নয়, বরং একটি আদর্শিক পাঠশালা। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জীবনে সেই পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন তার মা ছি সিন। আজকের বিশ্ব মা দিবসে সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের নেপথ্যে থাকা এক মহীয়সী মায়ের অবদানের গল্প উঠে এসেছে নতুনভাবে।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের শাসন দর্শনের গভীরে তাকালে পারিবারিক শিক্ষা ও নৈতিক শৃঙ্খলার এক মজবুত ভিত পাওয়া যায়। ১৯৩৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে (সিপিসি) যোগ দেওয়া ছি সিন ছিলেন একজন লড়াকু বিপ্লবী। ১৯৬৯ সালে কিশোর সি যখন বেইজিং ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম চীনের দুর্গম লিয়াংচিয়াহ্য গ্রামে যাচ্ছিলেন, তখন মা ছি সিন তাকে একটি হাতে সেলাই করা কিট উপহার দেন। তাতে লাল সুতোয় বুনে দিয়েছিলেন তিনটি শব্দ ‘নিয়াং তে সিন’ (মায়ের হৃদয়)।

সেই গ্রামে কৃষিকাজ, পশুপালন আর খননের কঠিন শ্রমে যখন কিশোর সি ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন মায়ের সেই ভালোবাসা আর আদর্শই তাঁকে সাহস জোগাত। বেইজিংয়ের সিপিসি জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই সাধারণ সেলাই কিটটি আজও সাক্ষ্য দেয় এক মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগের।

মায়ের মিতব্যয়ী অভ্যাস সি চিন পিংয়ের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আশির দশকে হ্যপেই প্রদেশে কাজ করার সময় তিনি ১০০ টুকরো পুরনো কাপড় দিয়ে জোড়া দেওয়া একটি কাঁথা ব্যবহার করতেন, যা তার মা এক দশক আগে সেলাই করেছিলেন। নতুন কাঁথা কেনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, বিলাসিতা নয় বরং আদর্শই তার প্রকৃত সম্পদ। লিয়াংচিয়াহ্য গ্রামে কাটানো সেই সময়টিকেই তিনি জীবনের ‘প্রথম বড় শিক্ষা’ হিসেবে মানেন, যা তাকে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখিয়েছে।

মা ছি সিন তার ছেলেকে সব সময় আত্মসংযম ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দিতেন। ২০০১ সালের বসন্ত উৎসবে তৎকালীন গভর্নর সি চিন পিং কাজের চাপে মায়ের কাছে ফিরতে না পেরে ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তখন মা ছি সিন এক অসাধারণ কথা বলেছিলেন, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের কাজ মন দিয়ে ভালোভাবে করা এবং জনগণের সেবা করাই হলো মা-বাবার প্রতি শ্রেষ্ঠ ভক্তি’।

সি চিন পিংয়ের মতে, পরিবার হলো মানুষের মানসিক ভিত্তি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার পরিবারগুলো সুস্থ ও নৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তার শাসন দর্শনে ‘জনগণই প্রথম’এই নীতির মূলে রয়েছে মায়ের দেওয়া সেই পারিবারিক মূল্যবোধ।

নাহার/হাশিম

তথ্য ও ছবি-সিসিটিভি/সিজিটিএন।

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.