মার্চ ২৪: ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লাইয়েনের চীন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন চিয়ান আজ (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন আশা করে যে ইউরোপীয় পক্ষ 'জিরো-সাম' (একের লাভে অন্যের ক্ষতি) মানসিকতা ত্যাগ করবে, সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ এড়িয়ে চলবে এবং চীনের উন্নয়নকে যুক্তিবাদী ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখবে।
জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অস্ট্রেলিয়া আজ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লাইয়েন উল্লেখ করেছেন যে, ইইউ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খনিজ অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো পক্ষেরই অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি, তিনি চীনের রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধির পদ্ধতি এবং উদ্বৃত্ত উত্পাদন ক্ষমতারও সমালোচনা ও বিরোধিতা করেন।
এর জবাবে লিন চিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মূলত বাজারের দ্বিমুখী নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক বাণিজ্যেও অনুকূল উদ্বৃত্ত রয়েছে। চীনের উত্পাদিত উচ্চমানের ও উদ্ভাবনী পণ্য বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রসার ও শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা করেছে।
লিন চিয়ান জোর দিয়ে বলেন, "আমরা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করতে চাই না। বাস্তবে, চীনে অবস্থিত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ পুনরায় ইউরোপেই রপ্তানি হয়। বাণিজ্যের এই অংশে চীনের উদ্বৃত্ত থাকলেও এর মূল মুনাফা যায় বিনিয়োগকারীদের পকেটেই। চীন শুধু 'বিশ্বের কারখানা' হয়ে থাকতে চায় না, বরং 'বিশ্বের বাজার' হতে চায়। আমরা আশা করি, ইউরোপীয় পক্ষ জিরো-সাম মানসিকতা ত্যাগ করবে, সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ এড়িয়ে চলবে, চীনের উন্নয়নকে যুক্তিবাদী ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখবে এবং চীনের 'পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার' নতুন প্ররিকল্পনা থেকে সৃষ্ট সুযোগগুলো যৌথভাবে কাজে লাগাবে; যাতে বাণিজ্যের ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া যায়।"
সূত্র: সিএমজি