অ্যান্টার্কটিকার চরম শীতল পরিবেশেও স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হচ্ছে অ্যান্টার্কটিকায় চীনের ছিনলিং স্টেশন। সম্পূর্ণ চীনের প্রযুক্তিতে নির্মিত লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও বর্জ্যপানি পরিশোধন চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। আর এতেই নিশ্চিত হচ্ছে স্টেশনটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ছিনলিং স্টেশনকে মোকাবিলা করতে হয়েছে তীব্র শীত, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও তুষারঝড়ের মতো কঠিন পরিস্থিতি। এসব প্রতিকূলতার মাঝেও চীনের তৈরি সিস্টেমগুলোর সচল রেখেছে স্টেশনটির কার্যক্রম। সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিটে ব্যবহৃত সিস্টেমটির মেধাস্বত্বও পুরোপুরি চীনের। স্টেশনের যাবতীয় মিঠাপানির চাহিদা পূরণ করে চলেছে এটি।
ছিনলিং স্টেশনের ৪১তম অভিযাত্রিক দলের প্রধান ওয়াং চ্যছাও জানালেন, স্টেশনে ব্যবহৃত সব মিঠাপানি এই লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে। দিনে সর্বোচ্চ ২০ টন পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর একটি চালু, একটি স্ট্যান্ডবাই থাকে। এখানকার পানি উৎপাদন সক্ষমতা স্টেশনের চাহিদার চেয়েও বেশি। পানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার স্থিতিশীল কার্যক্রমও ছিনলিংয়ের বড় সাফল্য। এখানে একযোগে ব্যবহার করা হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ এবং হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ। তিন নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ছিনলিং স্টেশনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৬০ শতাংশেরও বেশি জোগান দিচ্ছে।
ওয়াং চ্যছাও আরও জানান, ছিনলিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার আশপাশের গবেষণা স্টেশনগুলোর তুলনায় বেশি। পুরো অ্যান্টার্কটিকায় এই তিন জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহার একটি অগ্রণী উদ্যোগ। সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে আমরা অ্যান্টার্কটিকায় সামনের সারিতে রয়েছি। মেরু অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম গবেষণা, উন্নয়ন ও বাস্তব প্রয়োগে চীনের সক্ষমতার যে ধারাবাহিক উন্নয়ন ঘটছে, সেটাই প্রমাণ করে চলেছে এই ছিনলিং স্টেশন।
লেখক: ফয়সল আবদুল্লাহ
সূত্র: সিএমজি