চীনে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তি স্নায়বিক রোগে আক্রান্তদের পুনর্বাসনে নতুন আশা দেখাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ছোংছিংয়ের ৭২ বছর বয়সী লি ছিংতোং এর জীবন্ত দৃষ্টান্ত।
সেরিব্রাল ইনফার্কশনে আক্রান্ত হওয়ার পর বহু বছর বাম পা তুলতে পারতেন না লি। এখন শুধু চিন্তার মাধ্যমে সামান্য হলেও নাড়াতে পারছেন।
লি এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন ছোংছিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালে। সেখানে এখন দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের প্রথম মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস গবেষণা ও চিকিৎসা ওয়ার্ড চালু হয়েছে।
এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো ‘মোটর ইমেজারি’। অর্থাৎ শরীর নড়াচড়া করতে না পারলেও মস্তিষ্কে সেই নড়াচড়ার সংকেত তৈরি হয়। এরপর ইইজি ব্যবহার করে যন্ত্র মাথার ত্বক থেকে সেই সংকেত সংগ্রহ করে। এরপর অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করে বাহ্যিক উদ্দীপনা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা হয়। এতে মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগের একটি প্রতিক্রিয়া চক্র তৈরি হয়।
ওয়ার্ডটির চিকিৎসক লু ওয়ানথিং জানান, এই সংযোগে সামান্য উন্নতিও রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
গত বছরের অক্টোবরে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই স্ট্রোক থেকে বেঁচে যাওয়া রোগী এবং অনেকের ক্ষেত্রেই কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে।
চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের শিল্প হিসেবে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস খাতকে নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফয়সল/সাকিব
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া