এপ্রিল ৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াংতোং প্রদেশের চুহাই উপকূলে ধূসর-সবুজ সমুদ্রের পানিতে ক্ষুদ্রাকৃতির রোবটের দল এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করছে। চীনের সামুদ্রিক খামার বা মেরিন র্যাঞ্চিং ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে এগুলো।
সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরের একটি সামুদ্রিক খামারে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুয়াংতোং–হংকং–ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়া সামুদ্রিক পানির নিচের রোবটের ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত পর্ব।
সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি দেখিয়েছে, কীভাবে পানির নিচের রোবট প্রযুক্তি সামুদ্রিক খামার ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করে স্থিতিশীল সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে।
মার্চের শেষ দিকে আয়োজিত দুই দিনের এই প্রতিযোগিতায় চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ১৬টি দল তাদের রোবটকে বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করে। তীর থেকে দূরে অনিশ্চিত স্রোত, ঢেউ ও পানির ঘোলাটে অবস্থার মধ্যে রোবটগুলোকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।
শান্ত সুইমিং পুলে অনুষ্ঠিত আগের প্রতিযোগিতাগুলোর তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারীদের এমন সব কাজ করতে হয়েছে, যা সামুদ্রিক খামার পরিচালনাকারীরা প্রতিদিনই মোকাবিলা করেন। এর মধ্যে ছিল নোঙর উদ্ধার, সমুদ্রতল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ এবং জালের ওপর জমে থাকা শৈবাল পরিষ্কার করা।
বিচারকদের মতে, বাস্তব সমুদ্রে এই পরীক্ষা রোবটগুলোকে কেবল পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে নয়, বরং কম খরচে ব্যবহারযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও সহজে পরিচালনাযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে উন্নত করতে সহায়তা করবে, যা দ্রুত
বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রতিযোগিতার আগে আয়োজকরা ১৫ কোটি ইউয়ানের একটি 'সুযোগ তালিকা' প্রকাশ করে, যেখানে জাল পরিদর্শন, পানির নিচে পড়ে থাকা বস্তু উদ্ধার এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো বাস্তব কাজের চাহিদা উল্লেখ করা হয়।
এরপর কুয়াংতোংয়ের ১৭টি সামুদ্রিক খামার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ কোটিরও বেশি ইউয়ানের সম্ভাব্য অর্ডার আসে। ইতিমধ্যে চারটি পুরস্কারপ্রাপ্ত দল চুহাইয়ের সিয়াংচৌ জেলায় কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো চীন তার সরকারি কর্মপ্রতিবেদনে গভীর সমুদ্র প্রযুক্তিকে একটি কৌশলগত উদীয়মান শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে।
সূত্র: সিএমজি
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি