এপ্রিল ১: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছোংছিং পৌরসভা নগর উন্নয়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করেছে। শহরটি এখন আর বিচ্ছিন্ন বা খণ্ড খণ্ড উন্নয়ন প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে সমন্বিত ও বৃহত্তর এলাকাভিত্তিক পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই উদ্যোগটি দেশের উচ্চমানের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ছোংছিংয়ের প্রতীকী ছিয়ানসিমেন সেতুর সংস্কার প্রকল্প। চিয়ালিং নদীর ওপর অবস্থিত এই সেতুটি ইউচোং ও চিয়াংপেই জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে, যা শহরের বহুস্তরবিশিষ্ট অনন্য নগর বিন্যাসের জন্য পরিচিত।
তবে এই প্রকল্প শুধুমাত্র সেতু সংস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় আশপাশের এলাকার পথ উন্নয়ন, পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সমগ্র অঞ্চলকে একত্রে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি আবাসিক এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সড়ককে নির্বিঘ্নভাবে যুক্ত করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং পর্যটকদের জন্যও সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১৯.১ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী পথ সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ২ লাখ বর্গমিটার পুরোনো আবাসিক এলাকা উন্নয়ন এবং প্রায় ৫ লাখ বর্গমিটার অব্যবহৃত জমি ও ভবন ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আগের পদ্ধতি থেকে একটি বড় পরিবর্তন। আগে একটি প্রকল্প শুধুমাত্র নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, কিন্তু এখন পুরো জেলার পরিবহন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে “সমন্বিত পরিকল্পনা” হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে জনসংখ্যা, শিল্প কাঠামো, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং এলাকার প্রয়োজনীয়তা একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: সিএমজি