গতকাল (শুক্রবার) বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চীন-যুক্তরাষ্ট্র "পিংপং কূটনীতির" ৫৫তম বার্ষিকী স্মারক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে চীনের জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন, চায়না মিডিয়া গ্রুপ এবং চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ। স্মারক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল "একই পৃথিবী, একই ভাগ্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতায় বিজয়ী হওয়া"। এতে "ছোট বল দিয়ে বড় বল ঘোরানো" ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণ করা হয়, চীন-যুক্তরাষ্ট্র গণবন্ধুত্বের ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা হয় এবং দুই দেশের যুবকদের মধ্যে ক্রীড়া ও মানবিক বিনিময় আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০০ জনেরও বেশি অতিথি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে "চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুব ক্রীড়া বিনিময় ধারাবাহিক কার্যক্রম" আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
প্রচার বিভাগের উপ-পরিচালক ও সিএমজি-র পরিচালক শেন হাই শিয়োং তাঁর ভাষণে বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অভিনন্দন বার্তা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব গভীর করা এবং বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এটি নিশ্চয়ই আমাদের চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে। সিএমজি ইতিহাস থেকে প্রজ্ঞা ও শক্তি আহরণ করে এবং দুই দেশের জনগণকে বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে পরস্পরকে জানতে ও ভালোবাসতে, একে অপরের কাছ থেকে শিখতে এবং বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে চলেছে।
ইউএস-চায়না রিলেশনস ন্যাশনাল কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও "পিংপং কূটনীতি"র প্রত্যক্ষদর্শী জ্যান বেরিস বলেছেন, ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া "পিংপং কূটনীতি" চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প, ক্ষেত্র ও সামাজিক স্তরের মধ্যে যোগাযোগের সেতু নির্মাণ করেছিল। আমরা আশা করি "পিংপং কূটনীতির" পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ের চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে আরও একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে। এটি শুধু দুই দেশ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের জন্যই নয়, বরং বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের জন্যও সহায়ক।
স্মারক সম্মেলনে লিয়াং কো লিয়াং, জেং মিনজি, কনি সুইরিস, জুডি হফরোস্টের মতো "পিংপং কূটনীতি"র প্রত্যক্ষদর্শীরা একই মঞ্চে এসে ৫৫ বছর আগের সেই পাহাড়-সমুদ্র পেরোনো বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করেন এবং "ছোট বল দিয়ে বড় বল ঘোরানো"র পেছনের হৃদয়গ্রাহী গল্পগুলো তুলে ধরেন।
সিএমজি সযত্নে পরিকল্পনা ও নির্মাণ করা চীন-যুক্তরাষ্ট্র ক্রীড়া ও মানবিক বিনিময় স্মারক ডকুমেন্টারি "সিলভার বল পেরিয়ে যায় পাহাড়-সাগর" আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। এই ডকুমেন্টারিটি "পিংপং কূটনীতি"কে সূচনা বিন্দু হিসেবে ধরে গত ৫৫ বছরে দুই দেশের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের আন্তরিক মিথস্ক্রিয়া রেকর্ড করেছে এবং চিত্রের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ের মিলনের বন্ধুত্বের গল্প তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে চীন ও মার্কিন যুবকরা যৌথভাবে "সিলভার বল উড়ে ফুল ফোটে" শিরোনামের গানটি পরিবেশন করেন। তাদের সুমধুর কণ্ঠে দুই দেশের যুবকদের একসাথে হাতে হাত রেখে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুন্দর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
স্মারক সম্মেলনের স্থানে বিশেষভাবে "পিংপং কূটনীতি" ও চীন-যুক্তরাষ্ট্র ক্রীড়া বিনিময়ের বিভিন্ন নিমগ্ন অভিজ্ঞতার প্রকল্প স্থাপন করা হয়। সিএমজি ৮কে আল্ট্রা-এইচডি এআই রিস্টোরেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি আগের "পিংপং কূটনীতি"র দুর্লভ ঐতিহাসিক দৃশ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করেছে। সূত্র: সিএমজি বাংলা