চীনের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লাইবিন শহরে আখ চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আধুনিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এখন মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে কৃষকদের। এতে করে বেড়েছে উৎপাদন। এমনকি বেড়েছে আখের মিষ্টতাও।
স্মার্ট সিস্টেমটি আখের বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ বন্ধ বা চালু করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি এটি পোকামাকড় ও রোগ শনাক্ত করে এবং তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।
লাইবিনের আধুনিক কৃষি শিল্প পার্কে মাটির নিচে স্থাপিত সেন্সর সবসময়ই পিএইচ, আর্দ্রতা ও পুষ্টির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছে। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতি মু (প্রায় ৬৬৭ বর্গমিটার) জমিতে সার ব্যবহার ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২০০ কেজি।
কুয়াংসির মোট চিনি উৎপাদনের এক-ষষ্ঠাংশ এবং দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-দশমাংশ জোগান দেয় লাইবিন। এখানে বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো শিল্পচক্রে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
বপনের সময় বেইতৌ নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে নির্ভুল দূরত্ব বজায় রাখা হয়। মাঠ ব্যবস্থাপনায় ড্রোন ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বৃহৎ এলাকায় কীটনাশক ছিটানো সম্ভব হচ্ছে। স্মার্ট ড্রিপ সেচ ব্যবস্থাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।
চিনি উৎপাদন প্রক্রিয়াতেও এসেছে ডিজিটাল রূপান্তর। কারখানায় বড় স্ক্রিনে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখা যায় এবং বুদ্ধিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাপমাত্রা, ঘনত্ব ও সময় নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে চিনি আহরণের হার ৮৮.৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯১.৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
লাইবিনে এখন ১৩টি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে এবং ৩০টিরও বেশি ধরনের কার্যকরী চিনি পণ্য উৎপাদন করছে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের চিনি শিল্পের মোট উৎপাদন মূল্য ১৬ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে।
সূত্র: সিএমজি