মার্চ ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সেবায় দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় 'ষষ্ঠ বিমা' হিসেবে 'দীর্ঘমেয়াদী যত্ন-বিমা' চালু করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের অবস্থা বিবেচনায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের পুরো জনসংখ্যাকে এই সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব এবং মাতৃত্বকালীন বীমার পর এটি চীনের ষষ্ঠ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা স্তম্ভ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে অক্ষম বা অসুস্থ প্রবীণদের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং চিকিৎসার জন্য আর্থিক ও পেশাদার সেবা নিশ্চিত করা হবে। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর মাধ্যমে শয্যাশায়ী প্রবীণদেরও গোসল, খাওয়া এবং পোশাক পরার মতো মৌলিক কাজগুলোতে পেশাদার সহায়তা দেওয়া হবে। এই বিমার প্রিমিয়াম হবে আয়ের মাত্র শূণ্য দশমিক ৩ শতাংশ, আর পরিচালিত হবে নিয়োগকর্তা, ব্যক্তি এবং সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে।
২০১৬ সালের পাইলট প্রকল্প কর্মসূচি এবং ২০২০ সালে তারই সংস্করণ রূপে এটি চালু করা হয়েছে, যা যৌথভাবে ৩৩ লাখ বাধক্যজনিত প্রতিবন্ধীকে সহায়তার আওতায় এনেছে পাশাপাশি কেয়ারগিভিং বা সেবাখরচ ১০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি সাশ্রয় করেছে।
প্রযুক্তিগত জালিয়াতি রোধে মিলিমিটার-ওয়েভ রাডার এবং থার্মাল ইমেজিং ব্যবহার করা হবে, যা রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করেই সেবাদানকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। বর্তমানে চীনে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ কোটির উপরে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের দীর্ঘমেয়াদী যত্নের প্রয়োজন। এই বিমা সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও নিশ্চিত করবে।
রাসেল/হাশিম
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি।