এপ্রিল ৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের শীর্ষ আইনপ্রণেতা চাও ল্যচি এবং পর্তুগালের সংসদের স্পিকার হোসে পেদ্রো আগুইয়ার-ব্রাঙ্কো বুধবার বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন, যেখানে তারা দু’দেশের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছান।
জাতীয় গণ-কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও বলেন, চীন ও পর্তুগাল ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুদেশ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার।
চীন একে অপরের মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগগুলোকে সম্মান করে পর্তুগালের সাথে কাজ করতে আগ্রহী জানিয়ে চাও বলেন, সমতা ও আন্তরিক সংলাপের ভিত্তিতে ক্রমাগত ঐকমত্য গড়ে তুলতে ও প্রসারিত করতে চায় বেইজিং।
চাও উভয়পক্ষকে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন শক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষকে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে চাও চীন ও পর্তুগিজ-ভাষী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা ফোরামের মতো ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং যৌথভাবে প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা চর্চার আহ্বান জানান।
চাও বলেন, চীনের এনপিসি পর্তুগিজ সংসদের সঙ্গে বহুস্তরে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদান বাড়াতে, আইন প্রণয়ন ও তদারকির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রসারিত করতে, দ্বিপাক্ষিক বাস্তব সহযোগিতার জন্য আইনি নিশ্চয়তা প্রদান করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে আরও ভালোভাবে অবদান রাখতে ইচ্ছুক।
চাও উভয়পক্ষকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থা নির্মাণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে এবং প্রাসঙ্গিক দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন প্রচারে সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান।
জবাবে, আগুইয়ার-ব্রাঙ্কো বলেন, পর্তুগাল দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে। পর্তুগাল ও চীনের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা পর্তুগালের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মুখে পর্তুগাল, পর্তুগিজ-চীন সম্পর্কের কৌশলগত প্রকৃতিকে আরও জোরদার করতে, যৌথভাবে বহুপাক্ষিকতাকে মেনে চলতে, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে, ইইউ-চীন সম্পর্কের সুস্থ বিকাশকে উৎসাহিত করতে এবং বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা বৃদ্ধি করতে চায় বলে জানান তিনি।
আগুইয়ার-ব্রাঙ্কো বলেন, পর্তুগিজ সংসদ চীনের এনপিসি’র সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করতে এবং দুই দেশের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে ও দুই জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদার করতে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
একই দিনে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান চেং আগুইয়ার-ব্রাঙ্কোর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, চীন ম্যাকাওকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে পর্তুগালের সাথে যৌথভাবে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে, চীন-ইইউ অংশীদারিত্বের অবস্থানকে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক।
আগুইয়ার-ব্রাঙ্কো বলেন, পর্তুগিজ পক্ষ ম্যাকাওতে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির সফল বাস্তবায়নের প্রশংসা করে এবং চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাস্তব সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক যোগাযোগ ও সমন্বয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা রাখে।
হাশিম/নাহার
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।