নতুন দিনের জন্য তৈরি চীনের রোবট

নতুন দিনের জন্য তৈরি চীনের রোবট

মার্চ ২৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: যে নাচে বা মার্শাল আর্ট জানে, তার হাতে কারখানার স্পর্শকাতর জিনিসপত্রও থাকবে নিরাপদ। এমন ধারণা থেকেই চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর শিল্পখাতে ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়ছে দ্রুত। চায়না ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এর বার্ষিক অধিবেশনে এ বিষয়টিই উঠে আসে প্রধান আলোচ্য হিসেবে।

‘চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পর্বে: উচ্চমানের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ফোরামটি ২২ থেকে ২৩ মার্চ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে চীনের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

টানা তিন বছর ধরে চীনের সরকারি কর্ম প্রতিবেদনেও এআই প্লাস উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বছর ‘নতুন ধরনের বুদ্ধিমান অর্থনীতি’ গড়ে তোলার ধারণাও সামনে আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য এআই উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগানো, বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি তৈরি করা।

সম্প্রতি চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবটিক্স-এর পরিবেশনা বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মঞ্চনির্ভর প্রদর্শনী মূলত বাস্তব প্রয়োগের জন্য দরকারি প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রতিফলন।

ইউনিট্রি রোবোটিক্স গত বছর একটি ঐতিহ্যবাহী 'ইয়াংগে' নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ বছরের চায়না মিডিয়া গ্রুপ স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল গালাতেও মার্শাল আর্টস পরিবেশনা করে মুগ্ধ করেছে সবাইকে। এমন পরিবেশনা মূলত এটাই দেখায় যে, রোবট এখন বাস্তবের জটিল সব কাজের জন্য কতটা প্রস্তুত।

বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্রে সমন্বিত পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ এবং উৎপাদন লাইনে এ ধরনের রোবটকে এখন অনায়াসে কাজে লাগানো সম্ভব। এ ছাড়া বাহ্যিক চাপ মোকাবিলা ও সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নির্ভুল সংযোজন, ভারী পণ্য পরিবহন এবং গৃহস্থালি কাজে আরও কার্যকর করে তোলে এ রোবটগুলোকে।

উচ্চগতির চলাচল ও পরিবেশ বোঝার সক্ষমতাও এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে রোবট সংকীর্ণ জায়গায় চলাচল, তাক সাজানো কিংবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো কাজ করতে পারে।

আবার রোবটগুলো লাঠি হাতে লড়াইয়ের যে নমুনা দেখিয়েছে, তাতে এটিও পরিষ্কার যে, চীনের বুদ্ধিমান রোবটগুলো এখন সূক্ষ্মভাবে যন্ত্রাংশ সংযোজন, ভারী বোঝা বহন, এমনকি গৃহস্থালির কাজেও ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে।

প্রদর্শনীতে রোবটের অবস্থান নির্ণয় এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। দ্রুতগতির চলাচলে, রোবটগুলো রিয়েল-টাইমে তাদের হাঁটার ভঙ্গি সামঞ্জস্য করার ক্ষমতাও দেখিয়েছে।

ইউনিট্রির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ওয়াং সিংসিং বলেছেন, দ্রুত গতিবিধি ও জটিল বিন্যাসসহ মার্শাল আর্ট জানা রোবটগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এগুলো আরও বেশি স্থিতিশীল হবে, যা ব্যবহারকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে এআই-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট ইতোমধ্যে কারখানার উৎপাদন লাইন ও শিল্পপার্কে নিরাপত্তা টহলের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, যানবাহন ও রোবোটিক্সের সঙ্গে এআই-এর সমন্বয় ভবিষ্যতে শত শত বিলিয়ন ডলারের নতুন শিল্প তৈরি করতে পারে এবং ভোক্তা অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

ফয়সল/লুৎফর

তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.