এপ্রিল ৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যেন কোনোভাবেই বল প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচালিত না হয়, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং। তিনি বলেন, পরিষদের সিদ্ধান্ত উত্তেজনা আরও বাড়ানো বা পরিস্থিতিকে জটিল করার পরিবর্তে তা প্রশমনের দিকে যাওয়াই হবে সবার জন্য মঙ্গলজনক।
ইরান উত্তেজনা প্রশ্নে মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হয়নি, যেখানে বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক সমন্বয়ের আহ্বান এসেছিল। জরুরি বৈঠকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রস্তাবের পক্ষে ১১টি দেশ ভোট দিলেও চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত ছিল কলম্বিয়া ও পাকিস্তান।
ভোট না দেওয়ার ব্যাখ্যায় ফু ছোং বলেন, ইরান সংঘাত এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে, যা ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
দূত আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সব দেশেরই সম্মান জানানো উচিত। অঞ্চলটির বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখাও জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে খসড়া প্রস্তাবটিতে সংঘাতের মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের কার্যকর পথনির্দেশ থাকা উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন চীনের প্রতিনিধি। এ প্রস্তাবে পক্ষপাতিত্বেরও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফু ছোং সতর্ক করে বলেন, এমন প্রস্তাব গৃহীত হলে বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা যেতো এবং গুরুতর পরিণতি ডেকে আনার শঙ্কা ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা হওয়া উচিত উত্তেজনা কমানো, কোনো অননুমোদিত সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।
সূত্র: সিএমজি