এপ্রিল ১১: গতকাল (শুক্রবার) চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান চেং বেইজিংয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র ‘পিংপং কূটনীতির’ ৫৫তম বার্ষিকী স্মারক সম্মেলন এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুব ক্রীড়া বিনিময় ধারাবাহিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অভিনন্দনবার্তা পাঠ করেন এবং ভাষণ দেন।
হান চেং বলেন, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র ‘পিংপং কূটনীতি’ দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের দরজা খুলে দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। "ছোট বল দিয়ে বড় বল ঘোরানোর" এই কিংবদন্তি কাহিনী শুধু ক্রীড়া বিনিময়ই ছিল না, বরং তা সে সময়ের চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এমনকি বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একটি জটিল মুহূর্তে অবস্থান করছে। দুই দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত আবারও বিশ্ব পরিস্থিতির বিবর্তনের দিকনির্দেশনাকে প্রভাবিত করবে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার ও বন্ধু হওয়া ইতিহাসের নির্দেশনা এবং বাস্তবতার দাবি। গত ৫৫ বছরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে সামনের দিকে এগিয়েছে। বাস্তবতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের যৌথ স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক সমাজের যৌথ প্রত্যাশাও পূরণ করে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যকে দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব ধারণ করা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি রক্ষা করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
হান চেং জোর দিয়ে বলেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ভিত্তি জনগণের পারস্পরিক স্নেহের মাঝে নিহিত, যা দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকে বাড়ায়। ৫৫ বছর আগে একটি ছোট পিংপং বল বিচ্ছিন্নতার বরফ গলিয়ে দিয়েছিল। আজ আমাদের আরও বেশি আন্তরিকতা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘পিংপং কূটনীতি’র চেতনাকে নতুন যুগে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। দুই দেশের জনগণের কণ্ঠস্বর মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং গণমুখী, আঞ্চলিক ও যুব বিনিময়ের জন্য সেতু নির্মাণ করতে হবে, যাতে আরও বেশি মানুষ চীন-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বের অংশগ্রহণকারী ও সমর্থকে পরিণত হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ক্রীড়া বিনিময়ে অংশগ্রহণকারী মার্কিন যুব বন্ধুরা চীনের প্রতি কৌতূহল নিয়ে আসবেন এবং ফিরে যাওয়ার সময় চীনের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ধারণা ও চীনা সঙ্গীদের মূল্যবান বন্ধুত্ব নিয়ে যাবেন। আসুন আমরা বলকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাই এবং যৌথভাবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নতুন অধ্যায় রচনা করি।
স্মারক সম্মেলনের সময় হান চেং চীন ও মার্কিন উভয় পক্ষের অতিথিদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুব ক্রীড়া বিনিময় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ‘পিংপং কূটনীতি’র প্রত্যক্ষদর্শী ও টেবিল টেনিস ও রাগবি খেলোয়াড় প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনে চীন-যুক্তরাষ্ট্র ‘পিংপং কূটনীতি’র প্রত্যক্ষদর্শী, যুব টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ এবং মার্কিন যুব রাগবি খেলোয়াড়সহ প্রায় ৫০০জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন।
(স্বর্ণা/তৌহিদ/লিলি)
中美“乒乓外交”55周年纪念大会暨中美青少年体育交流系列活动启动
4月10日,国家副主席韩正在北京出席中美“乒乓外交”55周年纪念大会暨中美青少年体育交流系列活动启动仪式,宣读习近平主席贺信并致辞。
韩正指出,1971年4月,中美“乒乓外交”打开了两国人民友好往来的大门,开启了两国关系的新篇章。“小球转动大球”的传奇故事超越体育交流本身,对当时的中美关系乃至世界格局产生了深远影响。
韩正表示,当前,中美关系处于关键节点,中美两国的战略选择将再次影响世界格局的演进方向。习近平主席指出,中美两国做伙伴、做朋友,是历史的启示,也是现实的需要。55年来,中美关系历经风雨总体向前发展。实践证明,一个稳定、健康、可持续的中美关系符合两国人民的共同利益,也符合国际社会的共同期待。中美双方应从历史中汲取经验,以两国元首重要共识为指引,秉持相互尊重的态度,守住和平共处的底线,争取合作共赢的前景。
韩正指出,国之交在于民相亲,民相亲可促国之信。55年前,小小银球击碎了隔阂的坚冰。今天,我们需要用更大的诚意、更实的行动,让“乒乓外交”精神在新时代焕发新生。我们要认真倾听两国人民的心声,为中美民间、地方、青年等交流合作搭建桥梁,让更多人成为中美友好的参与者、受益者、支持者。希望来华参加体育交流活动的美国青少年朋友们,带着对中国的好奇而来,带着对中国的客观认知和中国伙伴的珍贵友谊而归。让我们以球为媒、薪火相传,共同书写中美友好交往的新篇章。
纪念大会期间,韩正与中美双方嘉宾共同启动中美青少年体育交流系列活动,并与中美“乒乓外交”亲历者和乒乓球、橄榄球运动员代表互动交流。
中美“乒乓外交”亲历者、青年乒乓球运动员、体育界人士以及美方青少年橄榄球运动员等约500人出席纪念大会。