মার্চ ২৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বিশ্বসেরা পানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে চীন। দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নেটওয়ার্ক।
গত রোববার বিশ্ব পানি দিবসের ৩৪তম আয়োজন উপলক্ষে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়, চীনের জাতীয় পানি নেটওয়ার্ক এখন মোট ভূখণ্ডের ৮০ দশমিক ৩ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সমন্বিত ও বহুল ব্যবহৃত পানি অবকাঠামো ব্যবস্থা।
চীনজুড়ে প্রায় ৯৫ হাজার জলাধার ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোর মোট ধারণক্ষমতা এক ট্রিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি। জলাধারের বৈচিত্র্য, সংখ্যা এবং উচ্চ বাঁধ নির্মাণের দিক থেকে চীন বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১–২০২৫) মেয়াদে চীন ১৮১টি বড় পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্মাণ শুরু করেছে। এ খাতে মোট বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।
গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে নলকূপের পানির আওতা ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বৃহৎ পানি সরবরাহ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে ৭১ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী।
এ ছাড়া চীনের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পানি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে সাউথ-টু-নর্থ ওয়াটার ডাইভারশন প্রজেক্ট-এর মাধ্যমে। এ প্রকল্পের পূর্ব ও মধ্য রুটের প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ৮৭ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি পানি উত্তরে সরবরাহ করা হয়েছে, যার সুবিধা পেয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বড় আকারের পানি অবকাঠামো নির্মাণ আরও জোরদার করা হবে, যা ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬–২০৩০) সফল সূচনায় সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে বড় নদীগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন, ডিজিটাল টুইন পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন প্রযুক্তির মধ্যে বৃষ্টিপাত রাডার, বহুমুখী ড্রোন এবং বেইতৌ নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
ফয়সল/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি