মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারলাইন্সগুলোর মুনাফায় টান পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কিছু এয়ারলাইন্স টিকিটের দাম বাড়িয়েছে এবং বাড়তি খরচ মেটাতে সাময়িক সারচার্জ আরোপ করেছে।
জোহানেসবার্গভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাশ্রয়ী এয়ারলাইন্স 'ফ্লাইস্যাফেইর' -এর চিফ মার্কেটিং অফিসার কার্বি গর্ডন বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চলাচলে সীমাবদ্ধতা জেট ফুয়েলের দামে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে শুরুতে দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছিল, যা এখন আরও বেড়েছে।"
স্যাফেইর-এর প্রতিটি উ্ড্ডয়নে ঘন্টায় প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এয়ারলাইন্সটি প্রতি টিকিটে ১০ ডলার পর্যন্ত সারচার্জ যুক্ত করেছে।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এয়ারলাইন্সগুলো হয়তো কিছুটা তাড়াহুড়ো করছে। 'এসএ ফ্লায়ার' ম্যাগাজিনের সম্পাদক গাই লিচ বলেন, "বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাসের জন্য তাদের জ্বালানির দাম আগাম নির্ধারণ করে রাখে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে বিমানে তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার কথা নয়।"
জ্বালানির দাম বাড়ায় যাত্রীদের বেশি টাকা খরচ গুনতে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিমানে ভ্রমণের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানির দামেই সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যপ্রাচ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হওয়ায় অনেক রুট পরিবর্তন বা ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। বিমানের যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো তাদের জন্য এই অস্থিরতা এখন ঘরের দোরগোড়ায় এসে ঠেকেছে।
সূত্র: সিএমজি