মার্চ ২৪: গত এক শতাব্দীতেও দেখা যায়নি বিশ্বে এমন যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটছে, আর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এখানে বড় ভূমিকা পালন করছে। ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’সময়কালে চীন উচ্চমানের উন্নয়নকে একটি বড় কৌশলগত কাজ হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং দ্রুততর উপায়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছে। বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিনিময় ও সহযোগিতার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আন্তর্জাতিক সমাজ ২০২৬ সালের জোংকুয়ানছুন ফোরামের মাধ্যমে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে পেরেছে। চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) অধীনস্থ সিজিটিএন-এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৯০.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা সামগ্রিক জাতীয় শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জোংকুয়ানছুন ফোরাম ‘উদ্ভাবন ও উন্নয়ন’কে এর স্থায়ী প্রতিপাদ্য হিসেবে ধরে রেখেছে। এ বছরের ফোরামের বার্ষিক প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও শিল্প উদ্ভাবনের গভীর সংযুক্তি’, যা শতাধিক দেশ ও অঞ্চলের এক হাজারেরও বেশি অতিথিকে আকর্ষণ করবে। জরিপে দেখা গেছে, ৮৪.৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জোংকুয়ানছুন ফোরাম বিশ্বের বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতার একটি চমত্কার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এছাড়া ৮৯.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জোংকুয়ানছুন ফোরাম কেবল চীনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সাফল্য প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্মই নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তিগত শাসনে চীনের গভীরভাবে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালাও।
এআই লার্জ মডেল, এমবডিড এআই থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন, ৬জি এবং ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস পর্যন্ত—জোংকুয়ানছুন ফোরাম নতুন উত্পাদন শক্তির অগ্রভাগের ক্ষেত্রগুলোর ওপর দৃষ্টি আরোপ করে। আর এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হলো অবিসংবাদিত প্রধান চরিত্র। উত্পাদনশীলতার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব মূল্যায়নে ৭১.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্প কাঠামো পুনর্গঠন ও উত্পাদন দক্ষতা বাড়ানোর একটি মূল কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ৭৪.৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি হিসেবে নিয়ে নতুন দফার প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত প্রবণতা কেবল ভার্চুয়াল কম্পিউটিং শক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ৮১.৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং এটি জীবনযাত্রার পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ৬৫.৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিশ্বব্যাপী বার্ধক্যের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি শ্রমের ঘাটতি পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠবে।
‘চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’সময়কালে চীনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের অনুপাত ছিল জিডিপি’র ২.৮ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে চীনের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকায়ন নির্মাণের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৯২.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীন কার্যকরভাবে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করে গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে পারে, যা চীনের কাঠামোগত সুবিধাকেই তুলে ধরে। অন্যদিকে, ৮৪.১ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, চীনের বিশাল জনসংখ্যা ও সুবিশাল বাজার উদ্ভাবনের ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
নতুন দফার প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প রূপান্তর ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। মানবজাতির অভিন্ন উন্নয়নের সমস্যা সমাধানের জন্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্মুক্ত ভাগাভাগির প্রয়োজন। জরিপে ৮৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীন উন্মুক্ত সহযোগিতা ও পারস্পরিক উপকারিতার মনোভাব প্রদর্শন করছে, যা আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য আরও বেশি সুযোগ এনে দেবে।
এই জরিপটি সিজিটিএনের ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট ৮৭২৩জন নেটিজেন ভোটদান ও মতামত প্রকাশের মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: সিএমজি