ফয়সল আবদুল্লাহ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবটকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে হাংচৌ। এ শহরের নার্সিং হোমগুলোয় এখন হিউম্যানয়েড রোবটরা প্রবীণদের সাহায্য করছে ব্যায়াম, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং সেবামূলক কাজে। উচ্চপ্রযুক্তির সেন্সর ও রাডার ব্যবহার করে রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে এ রোবট। পাশাপাশি, স্মার্ট হুইলচেয়ার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ সঙ্গী রোবটও তৈরি করছে।
হাংচৌর কয়েকটি কমিউনিটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এসব রোবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেখানকার একটি নার্সিং হোমে স্থাপন করা মানবসদৃশ রোবট প্রবীণদের পুনর্বাসন ব্যায়াম করাতে সাহায্য করে, সেবাযত্নের কাজে সহায়তা করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে টহল দিতে পারে।
সেখানে ১৩ জন প্রবীণ বাস করেন, যাদের গড় বয়স ৮৬ বছর। তাদের অধিকাংশই স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন জ্ঞানগত সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রায় ৭০ শতাংশেরই সার্বক্ষণিক সেবার প্রয়োজন হয়।
জাতীয় মান অনুযায়ী প্রতি পাঁচজন প্রবীণের জন্য একজন সেবাকর্মী থাকলেও প্রত্যেককে আলাদাভাবে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
হাংচৌর শিহু জেলার হেসথিনা ইন্টারঅ্যাকটিভ স্মার্ট বয়স্ক সেবাযত্ন কেন্দ্রের একজন তত্ত্বাবধায়ক ছেং চুয়ান। তিনি জানালেন, ‘কোনো প্রবীণকে পাশ ফিরিয়ে দিতে হলে অনেক সময় দুইজনের সাহায্য লাগে। ব্যক্তি যদি ভারী হন, একজনের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। রাতের ডিউটিতে যখন মাত্র একজন সেবাকর্মী থাকেন, তখন এমন কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।’
এই সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত রোবটগুলোতে উচ্চনির্ভুল ক্যামেরা ও মিলিমিটার-ওয়েভ রাডার সংযুক্ত রয়েছে। এগুলো নিয়মিত টহলের সময় প্রবীণদের শরীরী অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। পড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে, তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠায় এ প্রযুক্তি।
ওই প্রতিষ্ঠানে আরও কিছু বুদ্ধিমান সেবা রোবট রয়েছে। কিছু রোবট নরম খেলনার মতো আকৃতির, যা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ও তাদের সঙ্গ দেয়। কিছু আছে স্মার্ট হুইলচেয়ারের মাধ্যমে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জিনিসপত্র তোলা বা লিফটের বোতাম চাপার কাজে সহায়তা করে।
এসব প্রবীণসেবা রোবট তৈরি করেছে এমন এক তরুণ প্রকৌশলীদের দল, যাদের গড়বয়স মাত্র ২৭ বছর। এখন তারা রোবটগুলোকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছেন, যাতে বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে রোবটগুলো সঠিকভাবে বস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে।
হেসটিনা ইন্টারঅ্যাকটিভ স্মার্ট সার্ভিস রোবটিক্স কোম্পানির অ্যালগরিদম প্রকৌশলী চু ছি জানালেন, ‘বর্তমানে রোবটের মধ্যে বিভিন্ন সেন্সর সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি স্মার্ট হোম ম্যানেজারের মতো ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে পণ্যসামগ্রীর ইন্টারনেট বা আইওটি ব্যবহার করে সব ডেটা রোবটের কাছে পৌঁছাবে।’
প্রতিষ্ঠানটি হাংচৌর শত শত এআই কোম্পানির একটি মাত্র উদাহরণ। এখন শহরটিতে ৭৮০টিরও বেশি মূল এআই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প ও বাজারের চাহিদা পূরণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যাতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বা যন্ত্রের ভেতর যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৈনন্দিন জীবনে কাজ শুরু করতে পারে।
সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চালু হয়েছে হাংচৌ এমবডিড ইন্টেলিজেন্স পাইলট বেইজ। এটি প্রযুক্তি উন্নয়ন থেকে শিল্প পর্যায়ে প্রয়োগের পথে কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করার সেবা দেবে।
পাইলট বেসের পাশাপাশি হাংঝৌ শহর মানবসদৃশ রোবট পরীক্ষণ ও প্রয়োগ কেন্দ্র এবং এমবডিড ইন্টেলিজেন্স রোবট উৎপাদন উদ্ভাবন কেন্দ্রও গড়ে তুলছে। আবার চলতি বছরই শহরটি এআই খাতে ২০০টি মানদণ্ডভিত্তিক বাস্তব ব্যবহার ক্ষেত্র চালু করবে।
সূত্র: সিএমজি