এ বছরের 'বোয়াও এশিয়া ফোরাম' বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ২,০০০ প্রতিনিধি এই ফোরামে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো— “উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ”।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, এশিয়া আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অঞ্চলে পরিণত হওয়ার প্রধান কারণ হলো উন্মুক্ত সহযোগিতা বজায় রাখা। ফোরামে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ার জিডিপি-র অংশ ২০২৫ সালের ৪৯.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৪৯.৭ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, এশিয়ার দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের নির্ভরশীলতা ২০২৩ সালের ৫৬.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৫৭.২ শতাংশ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, এশিয়া আজও বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে; ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় বিশ্ব অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য— “যৌথ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ: নতুন পরিস্থিতি, নতুন সুযোগ, নতুন সহযোগিতা”—মানুষের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কীভাবে এই “যৌথ ভবিষ্যৎ” গড়া সম্ভব? ফোরামে চীন চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে:
১. সংঘাত ও বৈরিতা ত্যাগ করে শান্তি ও নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়া।
২. সংকীর্ণতা ও বিচ্ছিন্নতা ত্যাগ করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ গড়া।
৩. আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার দাপট ত্যাগ করে ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ গড়া।
৪. সন্দেহ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ গড়া।
চীনের এই প্রস্তাবগুলো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন যে, বোয়াও ফোরামে উপস্থাপিত ‘চীনা সমাধান’ থেকে শুরু করে চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের মূলে একটিই মূল শব্দ রয়েছে— আর তা হলো ‘উন্মুক্তকরণ’।
আরও উন্মুক্ত একটি চীন বিশ্বকে কী ধরনের সুযোগ দেবে? প্রথমত, চীনের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষ এবং বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত সমাজ রয়েছে, যা বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদার উৎস। চলতি বছরের সরকারি কর্মপ্রতিবেদনে ‘শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার গড়ে তোলা’কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এবং এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে চীন প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ স্থান করে নিয়েছে। চীনের এই নীতি বিশ্বের জন্য একটি বড় ‘নিশ্চয়তা’ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে একতরফা ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং অবাধ বাণিজ্যনীতি বজায় রাখার মতো আচরণের মাধ্যমে চীন প্রমাণ করছে যে, বিশ্বের সাথে উন্নয়ন ও সুযোগ ভাগ করে নিতে বদ্ধপরিকর বেইজিং।
(শুয়েই/তৌহিদ/জিনিয়া)